ঝিনাইদহের কমল সরকার বাঁশির সুরের যাদুকর
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:১৯
বাঁশিতে সম্মোহনী সুর তোলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কুমারদহ গ্রামের কমল সরকার। শুধু দেশেই নয়। জাপানে বাঁশি বাজিয়ে মুগ্ধ করেছেন শ্রোতাদের।
কমল সরকার দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বাঁশি বাজাচ্ছেন। তিনি ছিলেন একজন মৃিশল্পী। প্রতিমা তৈরি করতেন। ১৯৬৭ সালে কলেজে পড়ার সময় মাগুরার বাঁশি শিল্পী জুরান ঠাকুরের কাছে বাঁশি বাজানোর তালিম নেন। প্রাথমিকভাবে বাঁশি বাজানো শেখেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পালিয়ে ভারতে যান। সেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ করতেন। কলকাতার নিরঞ্জন বিশ্বাসের কাছে বাঁশি তৈরি শেখেন। দেশে ফিরে বাঁশি তৈরি ও বিক্রি পেশা হিসাবে বেছে নেন। বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশির বাঁশ সংগ্রহ করে বাড়ি এনে বাঁশি তৈরি করতেন। এরপর মেলা ও হাটে হাটে বাঁশি বিক্রি করতেন। মেলা বা হাটে বাঁশি বাজাতেন। তার বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে লোকে বাঁশি কিনতেন। জাতীয়ভাবে ২০১০ কারুশিল্পী প্রতিযোগিতায় বাঁশের বাঁশি তৈরি ও বাজানোতে প্রথম পুরস্কার পান। গত বছর কারুশিল্পী প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে জাপান সফরে যান। সেখানে বিভিন্ন স্থানে বাঁশি তৈরি ও বাজিয়ে শোনান। তার বাঁশির সুরে জাপানীরা মুগ্ধ হন। জাপানে পরিচয় হয় জাইকার প্রোগ্রাম অফিসার শিজুকা নাকানোর সাথে। তিনিও কমল সরকারের বাঁশির সুরে মুগ্ধ হন। বাংলাদেশে আসার পর বাঁশি তৈরি ও বাজানো শিখতে কমল সরকারের বাড়িতে আসেন। তিনি জানান, বাঁশি শুনতে তার ভাল লাগে।