‘ডাচরাই শিরোপা জিতবে’

গতবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছানো নেদারল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ওয়েসলি স্নেইডার। যদিও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ফাইনালে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ শিরোপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ডাচদের। তবে এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য ডাচদের সামনে দারুণ এক সুযোগ রয়েছে দ্বিতীয় স্থান থেকে প্রথম স্থানে উঠে আসার। আর স্নেইডারের জন্য এই সুযোগ হয়ত আর আসবে না। কারণ, বয়স আর ফর্ম বিবেচনায় এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার নিজের সেরা সময়টা পেরিয়ে এসেছেন বলেই মনে হচ্ছে। সুতরাং, আরেকটি বিশ্বকাপ দলে তিনি সুযোগ পাবেন কিনা সে নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। জাতীয় দলের কোচ লুইস ভ্যানগালের সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের কারণে গত দুই বছর দলের বাইরেই ছিলেন স্নেইডার। সেটা প্রভাব ফেলে তার পারফরম্যান্সেও। এমনকি ধারণা করা হচ্ছিল বিশ্বকাপের দল থেকেও হয়ত শেষ মুহূর্তে ছিটকে পড়তে পারেন তিনি। বিশ্বকাপের দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করার আগে ভ্যানগাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়কের পদ থেকে স্নেইডারকে সরিয়ে। এমনকি তার ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে অনেকটা প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন ভ্যানগাল। যদিও সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্নেইডার অবশেষে বিশ্বকাপের মূল একাদশেই জায়গা করে নিয়েছেন এবং গ্রুপপর্বে অসাধারণ খেলা ডাচ দলে তার অবদানও ছিল চোখে পড়ার মত। ম্যানেজারের সাথে সব বিরোধের অবসান ঘটিয়ে কমলা জার্সি গায়ে ক্যারিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিও খেলে ফেলেছেন তুরস্কের ক্লাব গ্যালাতাসারের ৩০ বছর বয়সী এই তারকা। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ডাচদের শিরোপা সম্ভাবনা নিয়ে ফিফা ডট কমের সাথে খোলাখুলি কথা বলেছেন স্নেইডার। সেই সাক্ষাত্কারই এখানে তুলে ধরা হলো : ফিফা :গ্রুপের সবকটি ম্যাচ জিতে শীর্ষদল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পরে এখন দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কেমন? স্নেইডার : যখন দল জিতে তখন স্বাভাবিকভাবে পুরো দলের চেহারা পাল্টে যায়। দলের বর্তমান অবস্থা অসাধারণই বলবো আমি। আমরা কঠিন এক গ্রুপে ছিলাম। টুর্ণামেন্টের আগে তাই অনেকেই বলেছে আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হবে। কিন্তু আমাদের সবসময়ই নিজেদের উপর আস্থা ছিল। এবং বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে থেকে আমরা নতুন পদ্ধতিতে খেলা শুরু করেছিলাম। তখন থেকেই আমাদের আত্মবিশ্বাস দিনে দিনে বাড়তে থাকে। স্পেন, চিলি এবং অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে নিয়ে গঠিত গ্রুপে যদি সবকটি ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে উঠা যায় এবং একইসাথে দশ গোল করা যায় তবে সেটা সত্যিকার অর্থেই দারুণ কিছু। আমাদের মধ্যে কেউই হয়তো এটা ভাবতে পারেনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রথম দিন থেকেই আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। যেকোন টুর্নামেন্টেই যেকোন দলের লক্ষ্য থাকে শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরা। আমরাও সেই লক্ষ্যেই খেলতে এসেছি। পুরো দলের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। ফিফা : পুরো দলের জন্য তো বটেই লুইস ভ্যানগালের জন্য এটা (নতুন পদ্ধতির সাথে মানিয়ে নেয়া) কতটা গুরুত্বপূর্ণ? স্নেইডার : অবশ্যই ব্যাপারটা সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি পুরো ম্যাচে পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের ভালো খেলতে উত্সাহিত করেন। বেশীরভাগ খেলোয়াড়ের জন্য এটা নতুন পদ্ধতি। কিন্তু কোন খেলোয়াড়ই এই পদ্ধতির সাথে মানিয়ে নিতে আপত্তি করেনি। শুধুমাত্র আরো বেশী অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। যদিও এখানে আসার আগে আমরা এই পদ্ধতিতে যথেষ্ট অনুশীলন করেছি এবং এজন্য কঠোর পরিশ্রমও করেছি। প্রীতি ম্যাচগুলোতে আমরা এর ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছি। আর স্পেন, চিলি কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলোর পারফরমেন্স সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই কোচকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। তার কারণেই আমরা এভাবে খেলতে পেরেছি। একইসাথে খেলোয়াড়রাও প্রশংসা পাবার যোগ্য। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে। আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করি কাউন্টার অ্যাটাকে আমরা খুবই বিপজ্জনক। ফিফা : ম্যাচের আবহ বুঝে কৌশল পরিবর্তন করার দক্ষতা থাকা জরুরী। একইসাথে বদলী খেলোয়াড়দের অবদানও দারুণ ছিল গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোতে। স্নেইডার : অবশ্যই এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোন দল বিশ্বকাপে খেলতে যায় তখন সেই দলে ২৩জন খেলোয়াড় থাকে। এটা শুনতে একটু কঠোর মনে হলেও আমি মনে করি কোন দলই শুধুমাত্র সেরা ১১ জনকে নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে আসে না। এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। একইসাথে প্রতিটি দলের একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রাও যেকোন সময় মাঠে নামতে প্রস্তুত রয়েছে। সৌভাগ্যবশত আমাদের দলে তা রয়েছে। যখনই আমাদের বদলী খেলোয়াড়রা মাঠে নেমেছে দলের চেহারা একই রকম ছিল। তারাও সকলে কঠোর অনুশীলন করেছে এবং তারাও দলে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফিফা : গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে প্রথম পর্ব শেষ করায় একদিন অতিরিক্ত বিশ্রাম পাওয়া গেছে। এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? স্নেইডার : বাড়তি একটি দিন পাওয়াটা এই ধরনের টুর্নামেন্টে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এটা মৌসুমের শেষ একটি টুর্নামেন্ট। সকলেই অনেক ম্যাচ খেলার পরে এখানে এসেছে। তাছাড়া গ্রুপপর্বেও তিনটি ম্যাচই কঠিন ছিল। তারপরেও ঐ ম্যাচগুলোতে আমরা যেভাবে খেলেছি তা সত্যিই অসাধারণ। একদিন অতিরিক্ত পাওয়াটা আমাদের জন্য ইতিবাচক হয়েছে এবং আমরা বেশ ভালভাবেই এটাকে কাজে লাগিয়েছি। এখন সবাই মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছে। ফিফা : ২০১০ এর ফাইনালে খেলার পরে সেটা কি এবার শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দিয়েছে? স্নেইডার : আমি যখন বিশ্বকাপে খেলা শুরু করি তখন থেকেই আমি এটি জেতার আশা করেছি। চার বছর আগে আমাদের জন্য এই চ্যালেঞ্জটা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু গ্রুপপর্বে ভাল খেলেও আমরা ফাইনালে হেরে যাই। ওটা আমার ক্যারিয়ারের অত্যন্ত কঠিন একটি মুহূর্ত ছিল। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হচ্ছে কোন না কোন সময় প্রতিশোধের একটি সুযোগ সকলের সামনে আসে। চার বছর পরে আমাদের সামনে এখন সেই মুহূর্ত উপস্থিত। এবার শিরোপা না জেতার কোন কারণ নেই। আমি মনে করি আমাদের দলটি দুর্দান্ত। শিরোপা জেতার সব কিছুই আমাদের মধ্যে রয়েছে। ফিফা : শিরোপা থেকে আর মাত্র চার ম্যাচ দূরে রয়েছেন আপনারা এবং এখন সামনে রয়েছে মেক্সিকো। তাদের সম্পর্কে কতটা জানেন? স্নেইডার : মাত্র চার ম্যাচ? এখনো অনেক পথ বাকি। আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আমরা সবসময়ই আমাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা করি। মেক্সিকো খুবই ভাল দল। প্রতিপক্ষ হিসেবেও তারা কঠিন। তাই আমাদের পুরো চিন্তা রয়েছে তাদের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ঘিরে। দেখা যাক কি হয়। -বাসস