মেহেরপুরে নষ্ট হয় লাখ লাখ টাকার আম
আজও গড়ে ওঠেনি কোন সংরক্ষণ ব্যবস্থা
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:৪৭
আম উত্পাদনে রাজশাহী জেলার পরই মুজিবনগর খ্যাত মেহেরপুর জেলার স্থান। আম উত্পাদনে দ্বিতীয় স্থান দখল করে থাকলেও আজও এখানে গড়ে ওঠেনি কোন সংরক্ষণ ব্যবস্থা। ফলে প্রতি বছর আম চাষীদের লাখ লাখ টাকার আম নষ্ট হয়।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় সরকারি ও ব্যক্তিগত মালিকানায় ছোট-বড় মিলে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আম বাগান রয়েছে। বর্তমানে বাগানগুলো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। চলতি বছর জেলার আম বাগানে প্রচুর আম ধরেছে। কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং আম উত্পাদন বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর প্রশিক্ষণ, আম গাছের পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, বয়স্ক আম গাছের পরিবর্তে নুতন নুতন উচ্চ ফলনশীল জাতের চারা রোপণ করা এবং রোগ ও পোকামাকড় দমন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমের ফলন বেশি হলেও পরিবহনের অসুবিধার জন্য কৃষকরা ভালো দাম পান না। বাগান মালিকরা দালালদের খপ্পরে পড়ে অল্প দামে আম বিক্রি করে থাকেন। অনেক বাগান মালিক পাকা আম সংরক্ষণ করার নিয়ম জানেন না এবং সংরক্ষণ করার কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার আম পচে নষ্ট হয়। আম বাগানের উপর বা বাগান করার জন্য কৃষি ব্যাংক কৃষকদের ঋণ বিতরণ করলে আম বাগানের আরো সম্প্রসারণ ঘটবে। ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ সেন্টার স্থাপন করা হলে মেহেরপুরের ফল নষ্ট হবে না। এই এলাকায় আম বাগানের উন্নয়ন, ফলন বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং নুতন জাত সম্প্রসারণে নুতন কলাকৌশল ব্যবহার করার জন্য মেহেরপুরে একটি আম গবেষণাগার স্থাপনা হলে পার্শ্ববর্তী জেলাতেও আম বাগান সম্প্রসারণ হবে। যদিও আমের ফলন বাড়ানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে কৃষি বিভাগ গাছে মুকুল আসার পর হতে চাষীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে ফলের উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য ৪ সহস্রাধিক চাষীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
অধিকহারে চাষীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য তাদের মাঝে রোগ প্রতিরোধ, দমন ও আম গাছের পরিচর্যা করার এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরগুলো থেকে চলতি বছর আমের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত থেকে উন্নতজাতের আমের চারা আসছে। এগুলো হলো সুবর্ণ, মল্লিকা, হাইব্রিড-১০, আম্রপলি, বারোমাসি ও রত্না ইত্যাদি। চাষীরা উত্পাদনে বেশি ফলন পাওয়ায় এগুলোর উপর জোর দিচ্ছে। সেই সাথে দেশি জাতের ল্যাংড়া, ফজলী, ক্ষীরসাপাত, গোপালভোগ, মিসরিভোগ, বোম্বাই, গোপালখাস, কোহিতুর ও অন্যান্য জাতের উন্নতির জন্য সরকারিভাবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জাত উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।
ঠাকুরগাঁওয়ে নষ্ট হয় কয়েক কোটি টাকার সবজি ও ফল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, সবজি ও দেশি ফল চাষে ঠাকুরগাঁওয়ে চাষিরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। সবজি চাষের জমির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। চাষিরা উত্পাদিত সবজি বাজারজাত করারও সুযোগ পেয়েছে। উত্পাদিত লাউ, কুমড়া, মূলা, পটল, সিম, করলা, বরবটি, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়েও রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন এলাকায় সবজি চাষ হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মহাজন আসছে। প্রতিদিনই সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য ট্রাক বোঝাই করে যাচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে উত্পাদিত সবজি ও ফল সংরক্ষণ, আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিবছর ৫ কোটি টাকারও বেশি সবজি ও ফল নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উত্পাদকরা।
সবজি ছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামের মানুষ বাড়ির আঙ্গিনাসহ খোলা জায়গায় ফলদ বৃক্ষ রোপণ করে ফলের উত্পাদন বাড়িয়েছে। এখান থেকে বাড়তি পাওয়া যাচ্ছে কলা, আম, জাম, জামরুল, লিচু, বাতাবী লেবু, বড়ই, আমড়া, কদবেল, আমলকিসহ বিভিন্ন প্রকারের দেশি ফল। বন বিভাগের তথ্য থেকে জানা যায়, গত দশ বছরে এ জেলায় দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে সবজি চাষের জমির পরিমাণ বেড়েছে অনেক। সেখানে চাষ হচ্ছে উচ্চফলনশীল জাতের সবজি। বর্তমানে সবজি বাজার চাঙ্গা হবার কারণে চাষিরা সবজি চাষে ঝুঁকছে বেশি। গ্রামের এই প্রান্তিক চাষিদের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে উন্নতজাতের সবজি ও ফলের চারা সরবরাহ করছে।
বেসরকারি সংস্থাসমূহের তথ্য থেকে জানা যায়, অপুষ্টির কথা বিবেচনা করে তারা সবজি চাষের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং চাষিদের আধুনিক চাষাবাদে সহযোগিতা দিচ্ছে। ঠাকুরগাঁও কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সবজি উত্পাদনের জন্য জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল, হরিপুর, পীরগঞ্জ ও সদর উপজেলার নারগুন, রুহিয়া বিখ্যাত। এই জেলায় ১৫ হাজারেরও বেশি চাষি সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কমল কুমার সরকার জানান, ঠাকুরগাঁও কৃষিপ্রধান জেলা। এ জেলায় ৮০ ভাগ লোকই কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এ জেলায় সবজি, ধানসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপকভাবে উত্পাদন হয়। সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ না থাকায় মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার সবজি ও ফল নষ্ট হচ্ছে।