অনুশীলন মাঠেও নেইমার যাদু

যে মাঠে ম্যাচ, নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের আগে দিন সেই মাঠে অনুশীলন করবে দুই দল। কিন্তু বেলে হরিজোন্তের মাঠে ব্রাজিল চিলিকে অনুশীলন করতে দেয়নি ফিফা। তারা কারণ দেখিয়েছে মাঠ ভালো না। স্টেডিয়াম থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ী অঞ্চলে, একেবারে পাহাড়ের উপরে নিয়ে যাওয়া হয় অনুশীলন। যেখান থেকে শহর দেখা যায় নিচের দিকে। গাড়ি বোঝাই করে সংবাদকর্মীদের নিয়ে যাওয়া হলো সেখানে। ভেনডো নোভা এলাকায় পাহাড়ের উপরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিক মাঠে ব্রাজিল নামলো অনুশীলনে। ছেলে-মেয়ে বুড়োবুড়ি, আশেপাশের পরিবারগুলো বাড়ির ছাদে। কেউ গেটের বাইরে। হুলস্থূল পড়ে গেলো ব্রাজিল অনুশীলন করবে শুনে। বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছেন সবাই। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে চার দিকে। নিরাপত্তার খাতিরে পা ফেলতে হয় সাবধানে। গেট থেকে দূরে থামিয়ে দেয়া হয় সাংবাদিকেদের। আশে পাশে ততক্ষণে শুরু হলো চিত্কার। প্রতিবাদ। কেন সবাইকে অনুশীলন দেখতে দেয়া হচ্ছে না। এক মহিলা বাচ্চা কোলে নিয়ে এসে রাগ ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন কেন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে চলছে শিশুকিশোর তরুণ তরুণীদের চিত্কার। লিবেরা, লিবেরা, লিবেরা, লিবেরা।’ ব্রাজিলীয়ান সাংবাদিকের কাছে জানতে চাইলাম ওরা কী বলছে? সাংবাদিক বলছেন, গেট খুলতে বলছে। নেইমারকে দেখবে।’ গেটে ঢুকে ৮তলা নিচে মাঠ। ফেসিং দিয়ে ঘেরা। চার দিকে ফ্লাড লাইট। বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা। সাথে আছে মিলিটারী পুলিশ। ভলান্টিয়ার। ফিফার লোকজনের সজাগ দৃষ্টি। ফুটবল ম্যাচ টিভির পর্দায় দেখা যায়। কিন্তু পুরো অনুশীলনটা দেখার সুযোগ পাওয়া যায় না। একটা রোমাঞ্চকর অনুুভূতি। কারণ নেইমার কিভাবে বল নিয়ে পোস্টে ঢুকবেন তা বার বার দেখা যায়। কিভাবে ফ্রিকিক করবেন তা বার বার দেখা যায়। ব্রাজিল মাঠে নামার সাথে সাথে ক্যামেরাগুলোর সাটার চলতে লাগলো দ্রুত স্পিড নিয়ে। টিনের উপরে একগাদা সীমের বীচি ঢেলে দিলে যেমনটা আওয়াজ হয়। ক্যামেরার শব্দগুলো যেন তেমনটাই শোনাচ্ছিল। সব ক্যামেরার ফোকাস নেইমারের দিকে। নেইমার কী করছে। নেইমার কার সাথে দুষ্টুমি করছে। কার সাথে হাত মেলাচ্ছে, কার সাথে গলা জড়িয়ে ধরে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। কার সাথে কথা বলছে। সব কিছুই যেন ক্যামেরায় বন্ধী করা হচ্ছে। ২ হাজার সাংবাদিক শুধু ব্রাজিলকে ফলো করছে। অসকার, লুসই, লিনহো, দানিয়েল আলভেস, হুলিও সিজার, থিয়েগো সিলভারা দুই ভাগ হয়ে বল পায়ে ১৫ মিনিট অনুশীলন করেন। টিশার্ট গায়ে বুকে হাত ভাঁজ করে নেইমারদের সব লুইস ফিলিপো স্কোলারি পোস্টের পেছনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন দেখছিলেন। গেটের বাইরে তখন অনুুশীলন দেখতে আগ্রহীদের প্রতিবাদের আওয়াজ বন্ধ। অনুশীলনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর সবাই মাফে গাছের নিচে গিয়ে স্ট্রেচিং করছিলেন। আর আলভেস এবং নেইমারকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হলো সেটপিস অনুলীশন করানোর জন্য। আধুনিক সিস্টেমে তৈরি ফ্রিকিকের সামনের দেয়ালটি দাঁড় করিয়ে বল বসালেন কোচিং স্টাফ। পালাক্রমে তিনটি করে শট করলেন নেইমার এবং আলভেস। ৫ জনের কৃত্রিম দেয়াল সামনে রেখে শট করলেন নেইমার। পাশেই মার্সেলো, ফ্রেড, ডেভিড লউস, রেমিয়েরস, মাইকন, ভিক্টর, হালক, আলভেস, সিলবাদের স্ট্রেচিংয়ের ফাঁকে চলছে অট্টহাঁসির আওয়াজ। একজন কৌতুক করে কি যেন বলছেন আর নিজেরাই চিত্কার করে হাসছেন। আর এ পাশে নেইমারের সেট পিসের নিখুঁত বল ধরতে পারছেন না গোলকিপার হুলিও সিজার। অথচ একই সাথে সবাই দেখছেন আলভেস শট করেন, বল বাইরে যায়। ৬টি শট করলে একটা গোল হয়, তো হয় না। আর নেইমার চোখ ধাঁধানো সব শট করছেন দুর্দান্ত গোল হচ্ছে, না হয় সাইড বার ঘেঁষে বাইরে যাচ্ছে। নেইমার যাদুতে গলদঘর্ম হচ্ছেন গোলকিপার। উড়ে গিয়ে পড়ছেন বলের উপরে। কিন্তু পেছনে চেয়ে দেখছেন বল জালে। আলভেস সেটপিস থেকে শট করছেন গোল হচ্ছে না। ৩৩টি করে শট করার পর নেইমার তিনটি পেনাল্টি শট করলেন তিনটিই গোল হয়েছে। আলভেজ আর নেইমারের পার্থক্যটা কোথায় সেটা অনুলীশন মাঠে দেখা গেলো।