শরীরে এত ফরমালিন মরলেও লাশ পচবে না
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:৪৭
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, দেশের খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, পানি, বায়ুসহ সবই দূষিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ শশ্মান হয়ে যাবে। খাদ্যে ফরমালিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে আমাদের শরীরে এত বেশি ফরমালিন রয়েছে যে, মরার পর মৃতদেহ পচবেও না, পোকায়ও খাবে না। কারণ আমাদের ফরমালিনযুক্ত এই দেহ খেলে পোকাও মারা যাবে। তাহলে তো আমরা সবাই আউলিয়া হয়ে যাব। গতকাল শনিবার সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শরীরে ফরমালিনের ব্যাপক উপস্থিতির কথা বলতে গিয়ে রওশন বলেন, সম্প্রতি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সিঙ্গাপুরে চিকিত্সার জন্য গিয়ে মারা যান। পরে তার মৃতদেহ যেন না পচে, সেজন্য কী পরিমাণ ফরমালিন দেয়া দরকার-সেটি পরীক্ষার পর চিকিত্সক দেখলেন- তার দেহে এত ফরমালিন রয়েছে যে, এমনিতেই তার মৃতদেহ চার-পাঁচ বছরেও পচবে না। এটা একটা বাস্তব ঘটনা। এই বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার (রওশনের) পাশে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদসহ প্রায় সবাই হেসে ওঠেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে রওশন বলেন, সামনে রোজা। সবকিছুতেই যদি এভাবে ভেজাল হয়, তাহলে মানুষ খাবে কী? প্রধানমন্ত্রী চাইলে তো এটা বন্ধ করতে পারেন। তিনি করেন না কেন? বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে থাকলে এটা বন্ধ করার দায়িত্ব তো তার। মানুষের জন্য আমাদের দরদ নেই কেন? আপনার বাবা, বঙ্গবন্ধু এটা করে যেতে পারেননি, সেজন্য তার কন্যা হিসেবে এই দায়িত্ব এখন আপনার। ’৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু এ ব্যাপারে একটি আইন করেছিলেন, যার শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড। সেই আইনটির এখন কী হলো?
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, মানুষ বিশুদ্ধ পানিও পান করতে পারছে না। খাবার পানিও দূষিত। আপনি তো ভালো পানি খান, এজন্য বুঝতে পারেন না। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যত্রতত্র বর্জ্য-আবর্জনা পড়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী-আপনি একদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে যান। দেখবেন কীভাবে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। আগের দিনে তো রাজা-বাদশারা রাতের বেলায় এসব দেখার জন্য রাস্তায় বের হতেন।
রওশন এরশাদ বলেন, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি ও বিসিমল্লাহ গ্রুপসহ এসব কেলেঙ্কারি কেন ঘটল? ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে, শেয়ারবাজারে ধস নামলো। ব্যাংকের ওপর মানুষের আস্থা নেই। ব্যাংকে এখন টাকা রাখাও নিরাপদ নয়। অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, কেন এমন অবস্থা হল? একসময় মানুষ মাটির নিচে টাকা রাখতো। তাহলে তো এখনও সেই অবস্থা ফিরে আসছে, মানুষ কী মাটির নিচে টাকা পুঁতে রাখবে? অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দু’জনই দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সত্। এরপরেও এই ধরনের ঘটনা ঘটল কেন?
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, অতীতে সরকার ও বিরোধী দল কখনও একসঙ্গে বসেনি। আমরা সরকারকে সবসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা বিরোধী দল নই। এ বিষয়ে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, সংবিধানের রক্ষক উচ্চ আদালত। সেই আদালতকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে।