রমজান আসতেই চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

রমজানের আগ মুহূর্তে অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা সেই পুরনো কায়দায় পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগেও সুফল পাচ্ছে না মানুষ। রমজান মাসে চাহিদা বেশি এসব পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা, বেগুন, আলু, টমেটো ও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে রমজানের পণ্যের বেচা-কেনায় ধুম পড়েছে। পণ্যবাহী বিভিন্ন যানবাহনে জট লেগে যায় খাতুনগঞ্জে। ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং টিম গঠন করেছেন। নগরীকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত সোমবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দোকানীদের পণ্যের খুচরা মূল্য তালিকা টাঙিয়ে এবং পণ্য ক্রয়ের রশিদ রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নানা কৌশলে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কয়েকজন আমদানিকারক জানান, দেশের গুদামগুলোতে প্রচুর ভোগ্যপণ্য মজুদ রয়েছে। আগামী এক বছর আমদানি না হলেও পণ্যের ঘাটতি হবে না। তারপরও রমজান মাসকে টার্গেট করেছে মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের বাজার বেসামাল। কারণ ছাড়াই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল শনিবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ৩৮/৪০ টাকা করে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। হঠাত্ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রমজান মাস শুরুর আগ মুহূর্তে এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নিতে পারছে না সাধারণ মানুষ। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বিক্রেতা হাজী মুছা জানান, রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম। ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া দাম বেড়েছে আদার। চায়না আদা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি ২২০ টাকা ও ইন্দোনেশিয়ার আদা ১৫০ টাকা। বাজারে চায়না আদার চাহিদা বেশি। ১৩০ টাকার আদা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। রমজানে চাহিদা বেশি এসব পণ্যের মধ্যে চিনি কেজি ৪৫ টাকা, চিড়া ৬০/৭০ টাকা, মশুর ডাল ১১৫ টাকা, খেসারি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, মুগডাল ১০৫ টাকা, মটর ৪৪/৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গতকাল শনিবার প্রতিটি বেচাকেনায় প্রচণ্ড ভিড় ছিল। ভোগ্যপণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি দেখা গেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর গতকাল আবহাওয়া শুষ্ক ছিল। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দোকানিরা পণ্য কিনতে ভীড় করে খাতুনগঞ্জে। পণ্য সরবরাহ নিতে পণ্যবাহী যানবাহনের যানজট ছিল। আকবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আলী জানান, প্রচুর বেচা-কেনা হচ্ছে। পেঁয়াজ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়েনি। আরো কয়েকদিন ভোগ্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে মাঝিরঘাট এলাকার বিভিন্ন গুদাম থেকে গতকাল প্রচুর পণ্য সরবরাহ দেয়া হয়েছে। জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও ট্রাকে পণ্য বোঝাই করতে গুদাম ও ঘাট শ্রমিকরা ব্যস্ত ছিলেন। নগরীর কাঁচা বাজারে কয়েকটি তরি-তরকারির দাম হঠাত্ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা জানান, টানা বর্ষণে সবজির ক্ষতি হয়েছে। সরবরাহ কম। বৃষ্টির কারণে শহরে সবজি আসতে পারেনি। বিক্রেতাদের এ ধরনের অভিযোগের সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। বিক্রেতাদের কাছে প্রচুর মৌসুমী সবজি মজুদ রয়েছে। দেখা গেছে, রমজানে চাহিদা বেশি এ ধরনের কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, বেগুন, টমেটো, আলুর দাম। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। কেজি ৫০/৬০ টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০/৯০ টাকায়, ৪০ টাকার বেগুন ৬০ টাকায়, ৩৫/৪০ টাকা টমেটো ৬০/৭০ টাকায়, ২০ টাকার আলু ৩০/৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজান শুরু হলে এসব পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। বরবটি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০ টাকা, তিতকরলা ৭০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা। এসব পণ্য কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। গত কয়েকদিন টিসিবি’র পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি হয়নি। ডিলাররা জানান, বৃষ্টির কারণে খোলা ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে না। তাই টিসিবি থেকে পণ্য আনা হয়নি। আজ রবিবার থেকে খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি হবে বলে ডিলার খোরশেদ আলম জানান। মাছের বাজারও চড়া। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র মাছ আহরণ বন্ধ রয়েছে। বাজারে সীমিত আকারে পুকুরের ও সাতক্ষীরার প্রজেক্টের মাছ বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাটা ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৭০/৮০ টাকায়।