ত রু ণী ক থা

‘সময় পেলেই নাচের চর্চা করি’

তুবা তাবাসসুম হূদি। চাঁদপুরে তাকে সবাই এক নামে চেনে নৃত্যশিল্পী হিসেবে। জেলার যে কোনো অনুষ্ঠানেই নাচ পরিবেশন করতে দেখা যায় হূদিকে। বাবা চাঁদপুরের স্বনামধন্য পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর, মা অ্যাডঃ সানোয়ারা হ্যাপী। তাঁদের আগ্রহ আর অনুপ্রেরণায় হূদির সাংস্কৃতিক জগতে আসা। কিন্তু তার শুরুটা হয়েছিলো রবীন্দ্র সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে। তখন সে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তারপর একে সংগীতের পাশাপাশি যুক্ত হলো নাচের তালিম। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সাথে বেড়েছে অভিজ্ঞতা, জ্ঞাতি আর দর্শকপ্রিয়তা। হূদির পড়াশোনা জীবনের মাড়ানো পথখানিও বর্ণিল। গান-নাচের পাশাপাশি শিক্ষাজীবনে এসেও তার সুনাম অক্ষুণ্ন। সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে টেলেন্টপুলে বৃত্তির পাশাপাশি পেয়েছে শাপলা কাপ অ্যাওয়ার্ড। বর্তমানে সে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। হূদি বলেন, ‘প্রথম মঞ্চে উঠি খাগড়াছড়িতে ২০০৯ সালে। সেখানের জেলা শিল্পকলায় সুরচর্চা সঙ্গীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে গান গেয়েই সংস্কৃতি জগতে আমার অভিষেক। সেদিন এই পলাশ ডাকা/কোকিল ডাকা আমার এই দেশটা’ এই গানটি গেয়েছিলাম। পারফর্ম করতে গিয়ে দেখি উত্তেজনায় আমার হাত-পা কাঁপছে। মজার ঘটনা হলো সেদিন এতোটাই নার্ভাস ছিলাম যে, মাইক্রোফোন অন না করেই গান গাওয়া শুরু করে দিলাম! পরে অবশ্য ভালোভাবেই গাইতে পেরেছিলাম।’ নাচ সম্পর্কে হূদি বলেন, ‘প্রথমে রবীন্দ্র, পরে নজরুল সংগীতের উপর একাধিকবার প্রশিক্ষণ নিলেও সবসময়ই চাইতাম একজন নৃত্যশিল্পী হতে। নিজেকে নৃত্যশিল্পী ভাবতে ভালো লাগতো। অবশেষে সে মাহেন্দ্রক্ষণ এলো চাঁদপুর এসে। চাঁদপুরের ‘পুনাক’-এর ব্যবস্থাপনায় আমি নাচ শিখতে শুরু করি। নাচের প্রশিক্ষণ নিতে এসে দেখলাম— গান গাওয়া থেকে নাচ করা অনেক সহজ! এরপর থেকে নিয়মিত নাচ করে আসছি। নাচকে নিজের কাছে বেশ আপন মনে হয়। তাই সময় পেলেই নাচের চর্চা করি।’ নাচের বাইরে হূদির শখ ছবি আঁকা। এর বাইরে বই পড়তে ভালোবাসেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের বইগুলো তার বার বার পড়া হয়। হূদি চান দেশে আদর্শ সংস্কৃতি চর্চা হোক। গান-নাচকে সবাই ভালোবাসুক। আগামীতে সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রেখে তিনি সুন্দর সমাজ গড়তে চান।