সাফল্য

অবলার এগিয়ে যাওয়া

বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তিকে। আবার শারীরিকভাবে কাজ করতে অক্ষম এমন দরিদ্র মানুষকেও বেঁচে থাকার জন্য পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তিকে। কিন্তু যে কারণেই একজন মানুষ ভিক্ষুক হোক না কেন, ভিক্ষাবৃত্তি এমন একটি পেশা যা মানুষের সামাজিক মর্যাদাকে করে ক্ষুণ্ন। মানবিক সাহায্য সংস্থা ও গ্রামীণ ট্রাস্টের একটি উদ্যোগের নাম ‘প্রজেক্ট ডিগনিটি’ যা এমন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে আসা একজন হচ্ছেন অবলা দাস। জীবন সায়াহ্নের দ্বারপ্রান্তেও যিনি এখন বেঁচে থাকবার স্বপ্ন দেখেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার মুড়াপাড়া ডাকঘরের একটি গ্রাম বানিয়াদি ঋষিপাড়া। অবলা দাস এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী, তিন ছেলে আর ছয় মেয়ে নিয়ে ছিল অবলার সুখের সংসার। স্বামীর মৃত্যুর পর বেঁচে থাকার তাগিদে বেছে নেন মোড়া তৈরির পেশাকে। কোনভাবে চলতে থাকে সংসার। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে যাবার পর অবলা নিঃসঙ্গই শুধু হয়ে পড়েন না, আর্থিক অনটনে মানবেতর জীবন যাপন করেন। একপর্যায়ে সন্তানেরা নিজেদের সংসার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে, বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ নেবার সময় তাদের হয় না। অবশ্য মেজো ছেলে রয়ে যায় মায়ের কাছে। আর্থিক অসংগতির শিকার হয়ে একসময় অবলা মোড়া তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। পেটের তাগাদায় বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তিকে। অবলা মানবিক সাহায্য সংস্থার সদস্য হন। আর এতেই পাল্টে যেতে থাকে অবলার জীবন-জীবিকার ধারা। মানবিক সাহায্য সংস্থার কাছ থেকে ঋণ পেয়ে অবলা ফিরে যায় তার পুরোনো পেশায়। শুরু করে মোড়া তৈরির কাজ। দিনে তিনি ৩ থেকে ৪টি মোড়া তৈরি করেন। প্রতি সপ্তাহে মুড়াপাড়া হাটে গিয়ে ছেলে এই মোড়া বিক্রি করে। প্রতি মোড়া বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। যে হাতে তিনি মোড়া তৈরি করতে সক্ষম হন, সে-ই হাত ভিক্ষার জন্য মেলে ধরতে তার মোটেও ভাল লাগে না।