সরকারি হেল্প লাইন থেকে আশানুরূপ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৪, ২১:৩২
নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সেবা দিতে চালু হওয়া সরকারি হেল্প লাইন নম্বর-‘১০৯২১’ কাজে আসছে না। নম্বরটিতে ফোন করলেই আইনি পরামর্শ, চিকিত্সা বিষয়ক পরামর্শ, পুনর্বাসন সেবা, কাউন্সিলিং পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে সরকারিভাবে এ ধরনের যে একটি হেল্প লাইন সার্ভিস চালু রয়েছে সে সম্পর্কে অনেকের ধারণাই নেই। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগকারীরা বলেছেন, নম্বরটি নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সমস্যা সমাধানে আশানুরূপ কাজে আসছে না। হেল্প লাইনটি ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়ার কথা থাকলেও ফোনে কেবল পরামর্শ ছাড়া তেমন কিছুই সেবা পাওয়া যায় না। অভিযোগ আছে—কল করার দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানেও অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ না করা, অভিযোগ আমলে না নেয়া, ফলপ্রসূ কোন পরামর্শ পাওয়া যায় না।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী শিউলী বলেন, অন্য অনেক ধরনের হেল্প লাইন নম্বরের কথা শুনেছি, কিন্তু শুধু নারী ও শিশুদের জন্য সরকারের যে হেল্প লাইন সার্ভিস আছে সেটা জানতাম না। আজই প্রথম শুনলাম এবং জানলাম।
অগ্রণী ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সুরাইয়া ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘না’ সরকারের এ ধরনের কোন হেল্প লাইন নম্বর আমি জানি না। এর আগে কখনো শুনিনি। তিনি বলেন, হেল্প লাইনের প্রচারণা থাকলে তা অবশ্যই জানতাম।
অভিযোগকারী আতাউর রহমান বলেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি কিশোরী মেয়ের বিয়ে ঠেকাতে ১০৯২১ নম্বরে ফোন দিয়েছিলাম, তারা কথা দিয়েছিল বিয়ে ঠেকাবে। কিন্তু দু’দিন পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সেখানে সরকারের কোন প্রতিনিধি যায়নি এবং যোগাযোগও করেনি। কিশোরী মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।
এদিকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম-এর প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এই নম্বরে ফোন করলেই আমরা সেবা দিয়ে থাকি। আমরা কোন বাসায় গৃহপরিচারিকাকে আটকে রাখলে তাকে উদ্ধার করা, বাল্য বিবাহ বন্ধ করা, আইনী সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তবে আমরা নিজেরা স্পটে যেতে পারি না। আমরা এনজিওকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, উপজেলা কর্মকর্তা, জেলার ডিসি, এসপি’র সমন্বয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। সেক্ষেত্রে কখনো কিছুটা বিলম্ব হতেই পারে।
হেল্প লাইন সার্ভিসের বিষয়ে বিস্তারিত জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের গবেষক কর্মকর্তা শায়লা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, আমরা তাত্ক্ষণিক সেবা ফোনেই দিয়ে থাকি। কোন নির্যাতিতা নারী ‘১০৯২১’ নম্বরে ফোন করলেই তার সমস্যা শুনে আমরা পরামর্শ দিই। সেটা আইনী সহযোগিতা হতে পারে, কাউন্সিলিং হতে পারে, উদ্ধার হতে পারে।
শায়লা ইয়াসমিন বলেন, আমরা ২০১২ সালের ১৯ জুন থেকে ২০১৪ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত মোট আইনি সহযোগিতা দিয়েছি ৪ হাজার ৪৪৪ জনকে। তাত্ক্ষণিক কাউন্সিলিং দেয়া হয়েছে ৭৯২ জনকে। পুলিশি সহযোগিতা দেয়া হয়েছে ৯২০ জনকে, বাল্য বিবাহ ঠেকানো হয়েছে ৫০ জনের, চিকিত্সা সহায়তা দেয়া হয়েছে ৪৩০ জনকে। এছাড়া আরো অন্যান্য সেবা তো আছেই।
নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সহযোগিতায় রাজধানীর ইস্কাটনের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ৮ম তলায় চালু রয়েছে এই কল সেন্টারটি। ‘জাতীয় কল সেন্টার বা হেল্প লাইন’ হিসাবে পরিচিত এই নম্বরটি হচ্ছে—‘১০৯২১’। কল সেন্টারে রয়েছে ৩০টি হেল্প ডেস্ক। একসাথে ৩০ ব্যক্তিকে সরাসরি সহযোগিতা দিতে সক্ষম এই হেল্প সেন্টারটি। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে বিনামূল্যে কল করা যায় এই নম্বরে। দেশের সবকটি মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং টেলিফোন নম্বর দিয়ে এই নম্বরে ফোন করা যায়। ফোনালাপ গোপন রেখে হেল্প লাইনে অভিযোগ শোনার পর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন সেবা প্রদানকারীরা। জরুরী ভিত্তিতে উদ্ধারের প্রয়োজন হলে কিংবা চিকিত্সার প্রয়োজন হলেও এই নম্বর থেকে পরামর্শ পেতে পারেন জনসাধারণ।