বিদেশি ভার্সিটির শাখা চালু হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে যাবে

বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করছে এডুকেশন রিসার্চ কাউন্সিল (ইআরসি)। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমতি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিধিমালাকেও স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ইআরসি আয়োজিত ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন ইজ এ রিয়েলিটি’ বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তরা এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা-২০১৪ শীর্ষক এই বিধিমালার ফলে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার নামে দেশে যে অবৈধ শিক্ষা-বাণিজ্য চলছে তা বন্ধ হবে। যারা শিক্ষার নামে বাণিজ্য করছে তাদের লাগাম টেনে ধরে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিধিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান এম কে বাশারের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস। আমানুল্লাহ ফেরদৌস বলেন, দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু হলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলছে। শিক্ষার নামে বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই বিধিমালায় বাংলাদেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিদেশি স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ক্যাম্পাস বা শাখা স্থাপন করলে কিংবা দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ক্যাম্পাস গড়ে তুললে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেক বাড়বে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে না গিয়েও বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নেয়ার সুযোগ পাবে। দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় অনেক কম থাকায় প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী দেশের বাইরে যায়। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বছরে ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী পড়াশুনার জন্য বিদেশে যায়। এতে শত শত কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। প্রচুর অর্থব্যয় এবং সময় নষ্ট করে, নানা ঝক্কি-ঝামেলা অতিক্রম করে বিদেশে গিয়েও অনেকে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পায় না। লায়ন এম কে বাশার বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু করে ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। সরকারের বিধিমালা মেনে এদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও এগিয়ে যাবে। তবে এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি থাকতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজ আহমদ বলেন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু বিষয়টিকে আমাদের গ্রহণ করা উচিত। কেননা বাংলাদেশে মানসম্মত শিক্ষা বর্তমানে পরিপূর্ণভাবে অনুপস্থিত। সেমিনারে কারিগরি শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, নেসারুল হক খোকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।