ফ্রান্সের শিরোপা সম্ভাবনার সামনে নাইজেরিয়া
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৪, ২১:৫৩
শিরোপা প্রত্যাশী ফ্রান্স গ্রুপপর্বে চমত্কার নৈপুণ্য দেখানোর পর শেষ ষোলয় আজ সোমবার নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে ইউরোপের এ দলটির অতীত বেশ সমৃদ্ধ। দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার পর কোনোবারই সেমিফাইনালের আগে থামেনি ফরাসিরা। অতীত সাফল্যের ধারাবাহিকতা এবারও ধরে রাখতে পারে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশমের দলটির গ্রুপপর্বের নৈপুণ্যে অন্তত এমন হুঁশিয়ারিই মেলে।
নাইজেরিয়া ১৯৯৮ সালের পর এবারই বিশ্বকাপে প্রথম নক-আউট পর্ব খেলছে। ফ্রান্সকে হারিয়ে দিতে পারলে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে সুপার ঈগলরা।
হন্ডুরাসকে ৩-০ গোলে পরাস্ত করার মধ্যদিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ফ্রান্স। এরপর সুইজারল্যান্ডকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে এই নৈপুণ্য ধরে রাখতে পারেনি করিম বেনজেমারা। বরং গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। গত বুধবার মারকানায় অনুষ্ঠিত ওই ড্র’র পরও ফ্রান্সকে অন্যতম কার্যকরী দল ভাবছেন ফরাসি রাইটব্যাক ব্যাকারি সাঙ্গা এবং মিডফিল্ডার স্নেইডারলিন।
ব্রাসিলিয়ায় অনুষ্ঠেয় নাইজেরিয়া লড়াইয়ের জন্য ফ্রান্সকে সতর্ক থাকতে বলেছেন সেন্টারব্যাক লরেন্ত কোসিয়েলনি। সাত মাস আগে বাছাইপর্বের প্লে-অফ জিতে ব্রাজিলের টিকিট নিশ্চিত করা ফ্রান্সের কাছে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন আর্সেনালের এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল গ্রুপপর্ব উতরানো। এখন যতটা সম্ভব পারা যায় আমরা এগিয়ে যেতে চাইবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই আমরা ভাল প্রতিযোগী এবং উচ্চাভিলাষী। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, আমাদের প্রতিপক্ষ রয়েছে এবং তাদের বিপক্ষে আমরা হারতেও পারি। আমাদের সামর্থ্য নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। এটা ঠিক যে, ইউক্রেনের বিপক্ষে (বাছাই পর্বে) খেলার পর দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তারপরও নক-আউট পর্বে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। তাই এ মুহূর্তে শেষ ষোলতেই আমাদের নজর থাকা উচিত।’
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আজ কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। ম্যামাদু সাখো উরুতে চোট পাওয়ায় কোসিয়েলনিকে এ খেলায় রাফায়েল ভ্যারানের সঙ্গে সেন্টার-ব্যাকের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পর ফিরছেন মিডফিল্ডার ইয়োহান কাবায়া। স্নেইডারলিনের জায়গায় খেলবেন তিনি। একম্যাচ বিশ্রাম কাটিয়ে ফিরছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ম্যাথিউ ভালবুয়েনা। আক্রমণভাগ সাজাতে দেশমের হাতে রয়েছে অ্যান্তোনি গ্রিয়েজম্যান এবং অলিভার জিরুদ এবং বেনজেমার মতো কার্যকরী খেলোয়াড়।
নক-আ্উটপর্বে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে লড়ায়ের প্রস্তুতিটা তেমন ভাল হয়নি নাইজেরিয়ার। বোনাস সমস্যায় তাদের প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়। যদিও নাইজেরিয়ান প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে এই সংকটের সমাধান হয়েছে। ইরানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু পরের ম্যাচে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয় পাওয়ায় পরের রাউন্ডের টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের। তাছাড়া গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারলেও অসাধারণ খেলেছে নাইজেরিয়া। ফরোয়ার্ড আহমেদ মুসা গোল দুইটি করেন।
আসন্ন লড়াইয়ের প্রাক্কালে মুসা বলেন, ‘রক্ষণভাগে আমাদের ভাল করতে হবে। আক্রমণভাগে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বিজয়ীরাই সমস্ত প্রশংসা পাবে। আমি জানি কঠোর পরিশ্রম এবং সৃষ্টিকর্তার সমর্থনে আমরা ইতিহাস গড়বো। কিন্তু খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে ভাল কিছু করতে অবশ্যই আমাদের সেরাটা খেলতে হবে।’
কোচ স্টিফেন কেসির দলটি ফরাসিদের মোকাবিলায় শক্তি বেড়েছে। পেশীর চোটের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারেননি ভিক্টোর ময়েসেস। চোট কাটিয়ে উঠেছেন চেলসির এই ফরোয়ার্ড। ব্রাসিলিয়ায় দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারেন নাইজেরিয়ার গোল কিপার ভিসেন্ট এনিমেয়া, যিনি ক্লাব ফুটবলে ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে এক হাজার ৬২ মিনিট ধরে লিলির গোলপোস্ট আগলে রেখেছেন।
* এটা ফ্রান্স-নাইজেরিয়ার দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াই। ২০০৯ সালে প্রথম লড়াইয়ে ১-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল তারা।
* বিশ্বকাপে এর আগে আফ্রিকান দলের বিপক্ষে তিনটি লড়াইয়েই মধ্যে দুইবার হেরেছে ফ্রান্স।
* বিশ্বকাপে ইউরোপীয়ান দলগুলোর বিপক্ষে গত দশ ম্যাচে মাত্র একটি গোল পেয়েছে নাইজেরিয়া।
* ফ্রান্সকে আজ হারাতে পারলে আফ্রিকার চতুর্থ দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে নাইজেরিয়া।
* বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া গত এগারো ম্যাচের মধ্যে একটিতে মাত্র জয় পেয়েছে।
* এর আগে দুইবার দ্বিতীয় রাউন্ড খেললেও একবারও জয়ের মুখ দেখেনি সুপার ঈগলরা।
* ফ্রান্স এর আগে তিনবার দ্বিতীয় রাউন্ড খেলেছে। তিনবারই জয় পেয়েছে তারা।
* এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ থেকে তিনগোলসহ ফ্রান্সের হয়ে শেষ নয়টি ম্যাচে নয়টি গোল পেয়েছেন স্ট্রাইবার করিম বেনজেমা।