প্রতিশোধ নিতে চায় আলজেরিয়া
স্পোর্টস রিপোর্টার, ব্রাজিল থেকে
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:২১
জার্মানি ও আলজেরিয়া-প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে কে জিতবে ? একশ জনকে এই প্রশ্ন করলে সবাই জার্মানির পক্ষে রায় দেবেন। ১৯৩৪ সালে ইতালী বিশ্বকাপ ফুটবলের সেফািইনালে খেলেছে জার্মানি। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলে দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এরপর আরও দুটি শিরোপা পায় ৭৪ এবং ৯০ বিশ্বকাপে। জার্মানি যখন বিশ্ব ফুটবলে দাপিয়ে বেড়ায় তখন আলজেরিয়া ফুটবলের আতুর ঘরে। ওরা তখনও টিভির দর্শক। যদিও একবার ১৯৮২ স্পেন এবং ৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে খেলেছিল। এরপর অনেক দিন তারা ফুটবল থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। নতুন করে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ফুটবলে পুনরায় প্রবেশ করে ধারাবাহিকতা রেখেছে ব্রাজিল বিশ্বকাপে। এসেই চমক দিয়েছে আলজেরিয়া। গোনায় ছিল না ফুটবল দর্শকদের কাছে। সবাই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালী, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস নিয়েই ব্যস্ত ছিল। ফুটবলের টকশোগুলোতে এইচ গ্রুপ নিয়ে আলোচনা যতটুকু হয়ছে তাতে রাশিয়া, কোরিয়া প্রাধান্য পেয়েছিল।
২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাই-নালের খেলায় দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে এই আলজেরিয়া। কথাটা এখনও অনেকের বিশ্বাসই হচ্ছে না। যার হাতের ছোঁয়ায় কোরিয়া ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে গিয়েছিল, সেই কোচ হাস হিদিংক যদি শোনেন তার দলের এই অবস্থা, তিনিও বিশ্বাস করবেন বলে মনে হয় না। বেলজিয়ামের কাছে (২-১) হার দিয়ে শুরু আলজেরিয়ার। দ্বিতীয় ম্যাচে রাশিয়ার সাথে (১-১) ড্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার উপর কোপ বসায়। ৪-২ গোলে কোরিয়াকে হারিয়ে ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দেয় আলজেরিয়া। ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, ইতালী, স্পেন, জাপান কোরিয়ার মতো দলের ছুটি হয়ে গেছে ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে। আর সেখানে গ্রুপ পর্বে ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট হাতে আলজেরিয়া এখন ব্রাজিলের পোর্তে আলেগ্রর শহরে। যেখানে রয়েছে পর্যটন শিল্প। দেখার মতো অনেক কিছু। কিন্তু সেদিকে চোখ নেই আলজেরিয়ার। কারণ জার্মানির মতো শক্তিশালী ফুটবল দলের বিরুদ্ধে খেলা। চোখে ঘুম থাকার তো কথা না।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ ফুটবলে তিনটি ম্যাচ খেলেছে আলজেরিয়া। সেবার ম্যাচ জিততে না পারলেও আলজেরিয়া ৬২’র চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল শূন্য ড্র করে চমক দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এবং স্লোভেনিয়ার সাথে ১-০ ব্যবধানে হারে তারা। সেই থেকে তারা ফুটবলের জন্য কাজ করে ব্রাজিল বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। দেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের চেষ্টা বোধহয় বিফলে যায়নি। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আলজেরিয়া। ৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবলে যখন আলজেরিয়া নাম লেখায় তখনও দুই জার্মান ভাগ হয়নি। সেবার গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারায় তারা। অস্ট্রিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। ৩-২ গোলে হারায় চিলিকে। আলজেরিয়া ৩ গোল করার পর ২ গোল হজম করেছিল। বেঁচে গিয়েছিল চিলি। আলজেরিয়া মনে করে তিন দলের ৪ পয়েন্ট থাকার পরও জার্মানি আর অস্ট্রিয়াকে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠাতে গিয়ে আলজেরিয়াকে বাদ দেয়া হয়েছিল ষড়যন্ত্র করে। এমনটাই মনে করেন আলজেরিয়ানরা। সেই পুরোনো প্রতিশোধ নেয়ার কথা মাথায় নিয়ে জার্মানির বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আলজেরিয়া।
আলজেরিয়ার কোচ ভাহিদ হালিহজিক তার খেলোয়াড়দের জার্মানির বিরুদ্ধে জেগে উঠার সাহস দিচ্ছেন। প্রতিশোধ নেয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলে আলজেরিয়া প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠে সন্তুষ্ট। এটা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কিন্তু যখন তারা জেনেছে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষের নাম জার্মানি, তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ৮২ স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবলের ঘটনা। কোচ বলেছেন, আমরা ভুলিনি ৩২ বছর আগের কথা। খেলোয়াড়দের বলছি, প্রতিশোধ নাও। প্রতিশোধ। যেভাবে আমাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছিল স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে, তার শোধ নিতে হবে জার্মানিকে হারিয়ে।
আলজেরিয়ার এই গর্জে ওঠার সাহস দেখে চিন্তায় আছেন জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো। পোর্তে আলেগ্রেতে এসে বলেছেন, প্রতিশোধের ম্যাচ চিন্তা করাটা বোধহয় ঠিক হবে না।
৩২ বছরের পুরোনো ঘটনা এখন আমাদের ছেলেদের মধ্যে থাকা উচিত না। আমার দলে মাত্র দুই জন ফুটবলার আছেন গোলকিপার রোমান এবং মিরোস্লাভ, তারা ঐ সময় জন্মেছিলেন।’ তিনি বলেন, আমি খুব অবাক হচ্ছি আলজেরিয়ান কোচ কেন প্রতিশোধের নেশায় মেতেছেন। কেন তিনি আমাদের বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শাস্তি দিতে চাইছেন।’ জোয়াকিম লো বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে তাদের দুটি জয় আছে সেটা বদলে দিতে চাই।’ আলজেরিয়া দল প্রসঙ্গে জোয়াকিম লো বলেন, আলজেরিয়া খুবই আক্রমণাত্মক একটি দল। খেলোয়াড়রা ভীষণ দৌড়াতে পারে। মাঠের লড়াইয়ে তারা ভয়ংকর।’