খোশ আমদেদ মাহে রমজান
অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:২৮
আজ পহেলা রমজান। গতকাল সূর্য অস্ত যাবার পর পরই নতুন চাঁদ উদিত হয়ে রমজান মাসের সূচনা করেছে। আরবী রমাদান শব্দের ফারসী উচ্চারণ রমজান। রমাদানের শব্দমূল রমদ যার অর্থ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ। ৬২২ খৃস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমা থেকে প্রায় ২৯৬ মাইল উত্তরে অবস্থিত মদীনা মনওয়ারায় হিজরত করে আসেন। এখানে এসে তিনি জানতে পারেন এখানকার ইয়াহূদীরা মুহররমের দশ তারিখ আশুরার দিনে সিয়াম পালন করে। তারা জানায়, তাদের নবী হযরত মূসা (আ.) বনী ইসরাঈলের হাজার হাজার মানুষকে জালিম রাজা ফেরাউনের কারাগার থেকে উদ্ধার করে লোহিত সাগরের ওপারে যেদিন নিয়ে গিয়েছিলেন সেদিন ছিলো আশুরা। তাই তিনি এদিন কৃতজ্ঞতা ও মুক্তির নিদর্শন স্বরূপ সিয়াম পালন করতেন। তাঁকে অনুসরণ করে ইয়াহূদীরা আশুরায় সিয়াম পালন করে আসছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন: মূসার উপর আমাদের অধিকার তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই বছর আশুরা এলে তিনি এবং তাঁর সাহাবিগণ আশুরায় সিয়াম পালন করলেন। এর প্রায় সাড়ে সাত মাস পরে ৬২৪ খৃস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি মুতাবিক দ্বিতীয় হিজরীর ১৫ শা’বান তারিখে রমাদান মাসকে সিয়াম পালনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়ে ইরশাদ করেন: রমাদান মাস, যাতে নাযিল হয়েছে মানুষের দিশারী, সত্পথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী আল কুরআন। সুতরাং তোমরা যারা এই মাস প্রত্যক্ষ করবে তারা এতে সিয়াম পালন করবে। (সূরা বাকারা: আয়াত ১৮৫)।
সিয়াম শব্দের শব্দমূল সওম যার অর্থ বিরত থাকা। দৃঢ়সংকল্প করে যাবতীয় কামাচার, পানাহার ও পাপাচার থেকে সুবিহ্ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকাটাই হচ্ছে সিয়াম। এই সিয়ামকে ফারসীতে বলা হয় রোজা। আত্মশুদ্ধি, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি গুণ অর্জনের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয় রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে। আমরা এই মুবারক মাসকে জানাই খোশ আমদেদ।
রমজান মাস অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি ধারণ করে রয়েছে। অধিকাংশ আসমানী কিতাব ও সহীফা নাযিল হয়েছিলো রমজান মাসে। পহেলা রমজান হযরত ইব্রাহীমের নিকট নাযিল হয়েছিলো সহীফা। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: রমাদানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক দোযখের আগুন থেকে নাজাতের।