চট্টগ্রামে বৃষ্টি নামলেই ট্রাফিক পুলিশ উধাও
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:৩৮
বৃষ্টি শুরু হলেই রাস্তা থেকে ট্রাফিক পুলিশ উধাও। যানবাহন চলাচলে থাকে না কোন শৃঙ্খলা। এলোপাতাড়ি যানবাহন চলাচলের ফলে মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হয় যানজট। নেমে আসে জনদুর্ভোগ। এছাড়া ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপনে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি, বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ জনদুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। প্রধান ২/১টি সড়কে যানজট নিরসনে পুলিশ ব্যস্ত থাকলেও অন্য সড়কগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে।
পবিত্র মাহে রমজান মাস। জলাবদ্ধতা, যানজট ও খোঁড়াখুঁড়িসহ নানা কারণে চট্টগ্রাম দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। দুর্ভোগের মধ্যে রিক্সা, সিএনজি, টেম্পোর মতো ছোট যানবাহনগুলোর কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ে। আদায় করা হয় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।
সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, প্রবর্ত্তক মোড়, কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু সংযোগ সড়ক, জাকির হোসেন রোড, কদমতলীসহ আরো কয়েকটি এলাকায় মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলে না। এলোপাতাড়ি যানবাহন চলে সৃষ্টি হচ্ছে অহেতুক যানজট। দেখা যায়, জলাবদ্ধতা না হলে উল্লেখিত স্থানগুলোতে যানজটের কবলে পড়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যান চলাচলে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি মানুষকে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যানজট নিরসনে বহদ্দারহাট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ফ্লাইওভার। কিন্তু এই ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে কোন কাজে আসছে না। ফ্লাইওভার দিয়ে কি ধরনের যানবাহন চলাচল করবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। ফলে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, যাত্রী কোচসহ সকলপ্রকার যানবাহন ফ্লাইওভারের নীচে সড়ক দিয়ে আগের মতো চলাচল করছে। কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু সংযোগ সড়ক দিয়ে খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই বাণিজ্যিক এলাকা থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই সড়কের রাজাখালী, কালামিয়া বাজার ও রাহাত্তারপুল এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে পণ্যবাহী ও ভারী যানবাহন চলাচল নির্ধারণ করে দেয়া হলে যানজট অনেকাংশে কমে যেতো।
নগরীর অনেক এলাকায় সিডিএ’র সড়ক সমপ্রসারণ কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। কাপাসগোলা রোডে ভূমি অধিগ্রহণ করে বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। সড়কের কিছু কাজ হয়েছে। ফলে নির্মাণ সামগ্রী সড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্রভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কে যান চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। নির্মাণ সামগ্রীগুলো সরিয়ে রাখলে যান চলাচলে সমস্যা হতো না। এছাড়া সড়কের ফুটপাতের উপর ইট, বালি, লোহা রেখে ব্যবসা চলছে।
নগরীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা নির্মাণাধীন কর্ণফুলী পানি শোধনাগারের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করছে। নগরীর ভেতরে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এই কারণে গত কয়েক মাস যাবত্ নগরীর ব্যস্ততম প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। অধিকাংশ সড়কে পাইপ লাইন স্থাপনের কাজও শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আবদুল করিম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘পাইপ লাইন স্থাপনে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য সিটি কর্পোরেশনের ১৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। সড়ক মেরামতের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।’ পাইপলাইন স্থাপন কার্যক্রম যেসব এলাকায় শেষ হয়েছে তা মেরামতে সিটি কর্পোরেশন এখনো কাজ শুরু করেনি। ফলে বর্ষাকালে যান চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। মানুষকে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মনিরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, ‘পাইপ লাইন স্থাপনের পর ওয়াসা এখনো আমাদের সড়ক বুঝিয়ে দেয়নি। যার কারণে মেরামত কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’