গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ওই ওয়ার্ড থেকে রোগীদের বের করে বারান্দায় রেখে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ফ্যান না থাকায় রোগীদের গরমে কষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৫০ বেডের একমাত্র এই হাসপাতালের ২য় তলায় মহিলা ও পুরুষ রোগীদের জন্য পৃথক দুটি ওয়ার্ড রয়েছে। এ ওয়ার্ড দুটির ছাদ অনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী, তাদের স্বজন, নার্স ও কর্মচারীরা আহত হচ্ছেন। গতকাল হাসপাতালে অসুস্থ মামাকে দেখতে এসে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের উজ্জ্বল মোল্লার শিশু পুত্র তামিম মোল্লা (৭) আহত হয়েছে। এ সময় তামিমের খালা নূর কুলসুম বেগম (১৯) ও খালাত বোন শারমিন খানমও (৬) আহত হয়।
তামিম কোটালীপাড়া উপজেলার লোহারঅংক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র। তামিম মোল্লাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অপর দুজন প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। আহত তামিমের মা তানজিলা বেগম বলেন, আমার ভাই অ্যাপেনডিক্সে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাকে দেখতে এলে হঠাত্ করে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আমার ছেলে, বোন ও ভাগ্নি আহত হয়। আমার ছেলের মাথা ফেটে গেছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বর্ণালী রায় (৪৫) বলেন, মঙ্গলবার ওয়ার্ডে কাজ করার সময় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ওই বাচ্চাটির মাথা কেটে রক্ত পড়ছিল। আমি মাথা চেপে ধরে বাচ্চাটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেই। এর আগেও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।
এক রোগীর স্বজন উপজেলার মধ্য হিরণ গ্রামের পারভীন বেগম বলেন, হাসপাতালে আমরা আসি জীবন রক্ষা করতে। কিন্তু এখানে এসে দেখছি ভবনের বেহাল দশা। এখানে চিকিত্সক, নার্স, রোগীসহ হাসপাতালের সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যে কোনো সময় ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এ প্রসঙ্গে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ওই শিশুটিকে সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। ওয়ার্ড থেকে রোগী বের করে বারান্দা ও ফ্লোরে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে রোগী স্থানান্তর করতে পারলে এ ঝুঁকি নিরসন হবে বলে তিনি জানান।