সাতক্ষীরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ৩ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সাসপেন্ড হওয়া কর্মকর্তারা হলেন: হাসপাতালের স্টোর কিপার মো. হাবিবুল হাসান, হিসাব রক্ষক মো. মোরতাজুল ইসলাম ও ফার্মাসিস্ট গোলাম হোসেন। ওষুধ পাচারের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের সাসপেন্ড করা হয়। গত শনিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরের সেপটিক ট্যাংকের কাছ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ১০ বস্তা ওষুধসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরদিন এ ঘটনা তদন্তে ইউরোলজি বিভাগের ডা. রুহুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। এছাড়া জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের অপর একটি তদন্ত টিম গঠন করে।
হাসপাতাল গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ডা. রুহুল কুদ্দুস জানান, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্য থেকে যে যে কোম্পানির নমুনা আমরা সংগ্রহ করেছি সেসব কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কারা সেসময় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন বা কারা এসব ওষুধ কিনতে আদেশ দিয়েছিলেন, তা জানতে পারলে সব পরিষ্কার হবে বলে তিনি মনে করছেন। তবে এসব ওষুধের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ বলে তিনি জানান।
তিন জনকে সাসপেন্ড করার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহাজাহান আলী বলেন, ওষুধগুলি ২০১৪-২০১৫ সালের তৈরি এবং সেসময় যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ইতোমধ্যে মেডিক্যাল কলেজ গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তাদের গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষ হলে কারা এর সঙ্গে জড়িত তা জানা যাবে।