যৌতুকের দাবিতে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা

মুলাদীতে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। গত সোমবার রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চরনাজিরপুর গ্রামের আজাহার সিকদারের ছেলে হেলাল সিকদার তার মা ও ছোট ভাই মিঠু সিকদারকে নিয়ে স্ত্রীর পারভীন আক্তার স্বর্ণার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালান। এক পর্যায়ে হেলাল স্বর্ণাকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে উপজেলার আলাউদ্দীন আকনের মেয়ে স্বর্ণার সঙ্গে হেলাল সিকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আলাউদ্দীন তিন লাখ টাকা যৌতুক দেন। ওই টাকা দিয়ে হেলাল ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই হেলাল ও তার পরিবার স্বর্ণার পরিবারের কাছে আরো দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় হেলাল বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে হাতুড়ি পেটাসহ বিভিন্ন নির্যাতন করে। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে স্বর্ণা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন। হেলালের পরিবার স্বর্ণাকে চাপ প্রয়োগ করলে মামলা তুলে নেন। মামলা তুলে নেওয়ার পর হেলাল ও তার পরিবার ফের এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন শুরু করে। গত সোমবার  রাত ১২টার দিকে হেলাল, তার মা মেরুনা বেগম, ভাই মিঠু স্বর্ণাকে মেয়েসহ বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেয়। গভীর রাতে স্বর্ণা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকার করলে তাকে তারা মারধর শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় মুলাদী থানায় হাজির হন স্বর্ণা। স্বর্ণার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল আহসান তাকে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় স্বর্ণা বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।