সামনে এবার কলম্বিয়া চ্যালেঞ্জ
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৪, ২২:০০
টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় চিলির বাধা টপকানোর পর ব্রাজিলের সামনে এবার আরেক লাতিন দেশ কলম্বিয়ার চ্যালেঞ্জ। কলম্বিয়া কোচ হোসে পেকারম্যানের আশঙ্কা, চার জুলাই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আরো আত্মবিশ্বাসী এক ব্রাজিলকে দেখবে সবাই। যদিও শেষ ষোলোয় নেইমারদের পারফরম্যান্স সমর্থক-সমালোচকদের কারো মন ভরাতে পারেনি।
এদিকে, ঐ ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে থাকা নেইমারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন লুইস ফেলিপে স্কলারি। বলেছেন, বয়সের তুলনায় মাঠে অনেক বেশি পরিপক্বতার পরিচয় দিচ্ছেন এই বার্সেলোনা তারকা।
নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের পর টুর্নামেন্টের একমাত্র দল হিসাবে গ্রুপ পর্বে তিনটি জয় নিয়ে নক আউট রাউন্ডে পা রেখেছে কলম্বিয়া। তবে পয়েন্ট টেবিল নয়, কলম্বিয়াকে নিয়ে আলোচনার মূল কারণ হয়তো তাদের দলীয় সমঝোতা। গ্রীসের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা দলটি টানা জয়ে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকা র্যাদামেল ফালকাওকে হারানো দলটি বিশ্বকাপে কি করতে পারবে সে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন অনেকেই।
তবে সে আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে দলটি এখন শেষ আটে। আর ফ্যালকাওয়ের অভাব দারুণভাবে ঘুচিয়ে দিয়েছে জেমস রড্রিগুয়েজের পারফরম্যান্স। ‘দ্য নিউ কিড’ ডাক নামের এই মোনাকো তারকা পাঁচ গোল দিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন।
সেই তুলনায় ব্রাজিলের অবস্থা অনেকটাই নড়বড়ে। হট ফেভারিট হিসাবে টুর্নামেন্ট শুরু করা স্বাগতিকরা গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে হোঁচট খাওয়ার পর, চিলির বিরুদ্ধে শেষ ষোলোয় জিততে হলো টাইব্রেকারে। তবে চিলি কোচ হোসে পেকারম্যান মনে করছেন, কষ্টসাধ্য এই জয় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে তুলবে।
এই আর্জেন্টাইন বলেন, ‘ব্রাজিল যে ধরনের একটা ম্যাচ জিতে এই অবস্থায় এসেছে, সেটা যে কোন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। আমরা ব্রাজিল দলের শক্তিমত্তার সাথে পরিচিত। কোন সন্দেহ নেই অসাধারণ একটা ম্যাচ দেখবেন সবাই। কারণ, দুটো দেশই ফুটবলকে একই চোখে দেখে।’
তবে সেরা ফর্মের ব্রাজিলকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা কলম্বিয়ার আছে জানিয়ে ’৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব পালন করা এই কোচ বলেন, ‘আমরা দল হিসাবে খুব ভাল ছন্দে আছি। তাছাড়া সময়টাও আমাদের পক্ষে। তবে এই ম্যাচটা হবে খুব কঠিন এবং আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করার সব চেষ্টাই তারা করবে।’
এদিকে প্রথম তিন ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক নেইমার, চিলির বিরুদ্ধে যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। প্রতিপক্ষের আঘাতে বার বার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এই তারকা মাঠে অভিনয় করেছেন বলেও সমালোচনা করেছেন অনেকে। তাদের জবাব দিয়ে স্কলারি বলেছেন, অভিনয় নয় বরং রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় নিশ্চিত কিছু ফ্রি কিক থেকে বঞ্চিত হয়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিলকে ২০০২ আসরে শিরোপা জেতানো এই কোচ বলেন, ‘নেইমারকে প্রথম ম্যাচ থেকেই কঠিন সব ট্যাকলের শিকার হতে হয়েছে। তাছাড়া তার উরুতে সমস্যা হচ্ছিল। তার পড়ে যাওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ হতে পারে। আমি বুঝতে পারছি না- মানুষ তার সমালোচনা করার মধ্যে কি সুখ খুঁজে পাচ্ছে। তার অবশ্যই ইতিবাচক কিছু পাওনা। তার বয়স মাত্র ২২; কিন্তু মাঠে তার ভূমিকা একজন ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মতো। অবশ্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সে এমন দায়িত্ব পালন করে অভ্যস্ত।’