আমদানিকারকদের গলার ফাঁস প্রাইভেট আইসিডি
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৪, ২২:৩৫
বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) আমদানিকারকদের জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে বেসরকারি আইসিডি প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, আমদানিকারক এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেসরকারি আইসিডি করার দাবির প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ২১টি বেসরকারি আইসিডি’র অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় ব্যবসায়ীরা এ সকল প্রাইভেট আইসিডি’র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
সরকারের শর্তানুযায়ী আইসিডিতে যে ধরনের ইকুইপমেন্ট এবং লোকবল থাকার কথা তার ন্যূনতম অধিকাংশ প্রাইভেট আইসিডিতে নেই। এতে করে যেমন সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে। একইভাবে অতিরিক্ত চার্জ নেয়ার অভিযোগও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। প্রাইভেট আইসিডিসমূহের অতিরিক্ত চার্জ আরোপের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম চেম্বার ও বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে একাধিকবার সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ব্যয় থেকে বাঁচার জন্য প্রাইভেট আইসিডি করার জন্য দাবি জানানো হলেও বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তা গলার ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে।
প্রাইভেট আইসিডিগুলো বন্দর থেকে পণ্যবাহী কন্টেইনার যথাসময়ে না নেয়ায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পোর্ট চার্জ ও শিপিং চার্জ দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রাইভেট আইসিডিতে ২৯টি পণ্য যায়। এই ২৯টি পণ্য আমদানিকারকদের প্রাইভেট আইসিডি থেকে খালাস নিতে হয়। বর্তমানে ২১টি প্রাইভেট আইসিডি’র অনেকগুলোর কন্টেইনার বহনকারী লং ভেহিক্যাল না থাকায় বন্দর থেকে কন্টেইনার তাদের আইসিডিতে নিয়ে যেতে অনেক সময় ক্ষেপণ করে। এতে করে ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু দু’দিনে বিভিন্ন আইসিডিগামী ২ হাজারের অধিক কন্টেইনার বন্দরে আটকা পড়েছে। এর ফলে আমদানিকারকগণ বন্দর ও শিপিং কোম্পানিকে যেমন অতিরিক্ত চার্জ গুণতে হচ্ছে। একইভাবে বিভিন্ন কারখানার কাঁচা মাল যথাসময়ে না পৌঁছায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। গত ২৮ জুনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯টি আইসিডিগামী ২ হাজার ১৭৩ টিইউইএস কন্টেইনার বন্দরে আটকা পড়ে আছে।
এদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালসমূহ প্রাইভেট আইসিডিতে না দিয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস দেয়ার দাবি জানানো হয়। বর্তমানে সোডা অ্যাশ, পিভিসি রেজিন, স্টেপল ফাইবার, কন্টেইনারাইজড স্কয়ার/রাউন্ড লগ, খেজুর, চনা, চিনি বিটুমিন, বেভারেজের খালি ক্যান, মার্বেল পাথর, সোডিয়াম সালফেট, গ্লোবাল সল্ট, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি পণ্যসমূহ শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়ায় তা দ্রুত নেয়ার জন্য বন্দর থেকে ডেলিভারির ব্যবস্থা করার দাবি করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এ সকল পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করার জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে সমপ্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিকট পত্র দেয়া হয়েছে। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম কর্তৃক প্রেরিত পত্রে বলা হয়, প্রাইভেট আইসিডি থেকে এসব পণ্যবাহী কন্টেইনার খালাস করতে নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এর ফলে বন্দর ও শিপিং এজেন্টদের ডেমারেজ চার্জ দিতে হচ্ছে। পূর্বে জাহাজের হুক পয়েন্ট থেকে কন্টেইনার সরাসরি প্রাইভেট আইসিডিতে পাঠানো হতো। কিন্তু বর্তমানে কন্টেইনার লিফট অন চার্জসহ অন্যান্য চার্জ আমদানিকারকদের দিতে হয়। যার পরিনামে বাজারে এসব পণ্যাদির উচ্চ মূল্যের পাশাপাশি আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহূত ফিনিশড পণ্যের মূল্যও অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। শিল্পের কাঁচামাল খালাসজনিত বিলম্বের কারণে উত্পাদন বিঘ্ন হয়। এদিকে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি আকতার হোসেন ইত্তেফাককে জানান, সামপ্রতিক সময়ে প্রাইভেট আইসিডি’র কারণে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার পৌঁছার অন্ততঃ ৭২ ঘন্টার মধ্যে আমদানিকারকগণ তাদের কন্টেইনার খালাস নিতে চাইলে তা সরাসরি খালাসের অনুুমতি দেয়া যেতে পারে। এতে করে জরুরী পণ্যবাহী কন্টেইনারসমূহ আমদানিকারকগণ খালাস নিতে পারবেন। এর কারণে বন্দরে কন্টেইনার জটও সৃষ্টি হবে না। আবার যাদের জরুরী প্রয়োজন নেই তাদের কন্টেইনারসমূহ প্রাইভেট আইসিডিতে যেতে পারে। তিনি বলেন, তারা এ ব্যাপারে কাস্টমস কমিশনারের নিকট আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, প্রাইভেট আইসিডিতে কন্টেইনার নিতে যেমন দেরি করা হচ্ছে। একইভাবে বিভিন্নভাবে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহজাহান সাজু জানান, তার ৫০ কন্টেইনার বিটুমিন বন্দর থেকে সরাসরি ডেলিভারি নিতে দেয়া হলে তার যেমন সময় বাঁচবে। একইসাথে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন। তিনি বলেন, যে সকল ব্যবসায়ী সরাসরি তাদের পণ্য বন্দর থেকে নিতে চায় তাদের সুযোগ দেয়া উচিত।