ব্যারেজ এলাকায় তিস্তা বিপদসীমার উপরে
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৪, ২২:৩৭
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল সোমবার তিস্তাব্যারেজ এলাকায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকালে ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় পানির গভীরতা ছিল ৫২ দশমিক ৬৪ মিটার।
রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টেও তিস্তা বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গত দু’দিনের বর্ষণে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা ধরলা, যমুনেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ বিভিন্ন নদ নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় পানির গভীরতা ছিল ৫২ দশমিক ৬৪ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা পরিমাপ করা হয় ৫২ দশমিক ৪০ মিটার। দুপুরের পর পানি প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। উজানের গজালডোবা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় হু হু করে পানি প্রবেশ করে তিস্তার বাংলাদেশ অংশে। পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার দু’কূল প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে নদ-নদীগুলোর পানিবৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের ফলে এই অঞ্চলের চরাঞ্চল এবং নদী অববাহিকা এলাকার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে তিস্তার পানি গতকাল বিপদসীমার অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডালিয়া, ডিমলা, জলঢাকার ৮টি ইউনিয়ন, রংপুরের গঙ্গাচড়ার ৮টি, কাউনিয়ার ৫টি এবং পীরগাছার ৪টি ইউনিয়ন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, আদিতমারী সদর, হাতিবান্দার ১৪টি, কুড়িগ্রামের উলিপুর, রাজারহাট, চিলমারীর ১৮টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটার ১০টি ইউনিয়ন, ধরলার নদীর পরিবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, নাগেশ্বরীর ১৪টি ইউনিয়ন, ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পানি উঠে গেছে। এসব নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি উঠেছে। তিনজেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী মিলে প্রায় এক লাখ মানুষ পনিবন্দি হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তারা অতিকষ্টে জীবনযাপন করছেন।