নাটোরে অপহরণের এক মাসেও উদ্ধার হননি শিক্ষক শহিদুল ইসলাম

আরকে তালুকদার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে (৫০) অপহরণের এক মাস পরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী মিলন মিয়াজির পিতা এমদাদুল মিয়াজিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি না করায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে ঐ প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়া হয়। ২ জুন বিকেলে প্রধান শিক্ষক জরুরি প্রয়োজনে বেজপাড়া আমহাটির বাড়ি থেকে নাটোর শহরের দিকে আসেন। এক ঘন্টা পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি ফিরে না আসায় পরেরদিন ৩ জুন তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম সদর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি ও পরে মিলন মিয়াজিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অপহরণের মামলা করেন। এরপর ০১৭৫০৮২৫০৩৮ নম্বর থেকে তার ভাই তালিম হোসেনের মোবাইল ফোনে বলা হয়, ‘তোর ভাইয়ের হাড্ডিও পাবি না’। ‘মামলা চালালে তোকেও তুলে নেয়া হবে’। নম্বরটি র্যাব-৫ এর মেজর জামান ও সদর থানার ওসি আসলামউদ্দিনকে দেয়া হয়। র্যাব জানায়, ঐ নম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে কথা বলা হয়েছে। যে ফোন করছে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সদর থানার ওসি আসলামউদ্দিন গত ৮ জুন শিক্ষকের জামাতা ইউসুফ ভূঁইয়াকে জানান, শহিদুল ইসলাম যশোরের শার্শা থানাধীন জনসেবা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। তিনি তাঁর চিকিত্সার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ০১৮৬৪৬৭৬৯৮৭ নম্বরে নয় হাজার টাকা বিকাশ করার কথা বলেন। জামাতা তাত্ক্ষণিক ঐ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর থেকে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাসির হোসেন কথিত হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা হন। কিন্তু হাসপাতালের অস্তিত্ব না পেয়ে তারা ফিরে আসেন।