তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : দ্বাদশ শ্রেণি
প্রকাশ কুমার দাস প্রভাষক, কমিপউটার শিক্ষা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজ, ঢাকা
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৮
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, অধ্যায়টির খুঁটিনাটি পড়বে তাহলে প্রত্যেকটির উত্তর দিতে পারবে। তারপরও কোন সমস্যা দেখা দিলে আমাদের দেয়া জানার কর্নারের সঙ্গে মিলিয়ে নেবে তোমার জানা অজানার মাত্রাকে।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আজও ২য় অধ্যায়-কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং থেকে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো। তোমরা প্রতিটি লেখা সংগ্রহ করে মনোযোগ সহকারে পড়বে।
প্রশ্ন-১। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বর্ণনা কর।
অথবা, LAN, MAN ও WAN এর বর্ণনা দাও।
উত্তর : কম্পিউটার নেটওয়ার্ক : বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এক বা একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বা রিসোর্স শেয়ারের জন্য কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ক্যাবল বা টেলিফোন তার, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ডিভাইস, ভিস্যাট, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট এর সাথে মডেম দ্বারা সংযোগ স্থাপনকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।
আকার, দূরত্ব ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। কয়েকটি সাধারণ নেটওয়ার্ক হল-
১.লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Local Area Network - LAN)
২.মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (Metropolitan Area Network - MAN)
৩.ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (Wide Area Network - WAN)।
নিচে এদের বর্ণনা দেয়া হল :
১. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Local Area Network – LAN) : LAN শব্দের পূর্ণ নাম Local Area Network। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ক্যাবলের মাধ্যমে এক কম্পিউটারের সাথে অপর কম্পিউটারের সংযুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাকে LAN বলে। একই ভবনের একই বা বিভিন্ন তলায়, পাশাপাশি ভবন বা নির্দিষ্ট একটি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কম্পিউটারগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করে LAN করা হয়। সাধারণত 100 মিটার বা সীমিত দূরত্বের মধ্যে এ ব্যবস্থা গড়ে উঠে। LAN এর ট্রান্সমিশনে মিডিয়া হিসেবে সাধারণত কো-এক্সিয়াল ক্যাবল, ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। LAN এর সংগঠনে একটি সার্ভার কম্পিউটারের সাথে কয়েকটি কম্পিউটার বা ডিভাইস সংযোগ করা হয়ে থাকে। চিত্রে একটি LAN এর সংগঠন দেখানো হল।
বৈশিষ্ট্য :
১.সীমিত দূরত্বের মধ্যে এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ।
২.ডাটা স্থানান্তরের হার সাধারণত 10 মেগাবিট/সে: থেকে 1000 মেগাবিট/সে:।
৩.সিরিজ (শ্রেণি) সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত থাকে।
৪.এ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সহজ ও খরচ কম।
২.মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (Metropolitan Area Network – MAN) : MAN এর পূর্ণ নাম Metropolitan Area Network। একই শহরের বিভিন্ন স্থানের কম্পিউটারের মধ্যে যে সংযোগ স্থাপন করা হয় তাকে MAN বলে। এ ধরনের নেটওয়ার্কের জন্য মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, মডেম ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। সাধারণত কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের শাখা অফিসের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এ ধরনের নেটওয়ার্ক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
চিত্রে, কোন প্রতিষ্ঠানের মূল স্টেশন মোহাম্মদপুর ও তার বিভিন্ন শাখা অফিসগুলোর মধ্যে যোগাযোগ দেখানো হয়েছে। MAN এর উদাহরণ হিসেবে কোন শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ককে উল্লেখ করা যেতে পারে।
৩. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (Wide Area Network – WAN) : WAN শব্দের পূর্ণ নাম Wide Area Network। বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় অবস্থিত একাধিক LAN ও MAN কে নিয়ে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে । বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠে বলে বিভিন্ন LAN ও MAN-কে সংযুক্ত করার জন্য বিশেষ ডিভাইস ও টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের নেটওয়ার্কে টেলিফোন লাইন, স্যাটেলাইট, মাইক্রোওয়েভ, মডেম, বেতার তরঙ্গ, সাবমেরিন ক্যাবল ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। তথ্য আদান প্রদানে এ ধরনের নেটওয়ার্ক বেশি ব্যবহূত হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদগণ WAN এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত করেছেন। চিত্রে ঢাকার সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরে অবস্থিত কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ দেখানো হয়েছে। WAN এর একটি উদাহরণ- ইন্টারনেট ।
বৈশিষ্ট্য :
WAN বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠতে পারে, এমনকি এর বিস্তৃতি গোটা বিশ্বজুড়ে হতে পারে।
LAN-এর চেয়ে সাধারণত ধীর গতির হয়ে থাকে।
এ নেটওয়ার্কে অবশ্যই ইন্টারনেট ওয়ার্কিং ডিভাইস (যেমন- রাউটার, মডেম) ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়।