জেলার উপকূলীয় এলাকার এক সময়ের দূর্ধর্ষ বন ও জলদস্যু সর্দার নূর নবী ওরফে নোব্বা চোরাকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নূর নবী ওই গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে। এ সময় নিহতের বসত ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট সংঘঠিত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ছেলে আকবর হোসেনের স্ত্রী নাজমুন নাহার অভিযোগ করে জানান, দুপুর ১টার দিকে হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে মহড়া দিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় শাহাজান কমান্ডার, কাদের, সাইফুল, ফরিদ কমান্ডার, জামাল উদ্দিন, রবি, মোস্তফা কমান্ডার, ভুট্টু, একরাম মেস্ত্রী ও বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বসত ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তার অন্ধ শ্বশুর নূর নবীকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৩টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর এক সপ্তাহ আগে নিহতের বড় ছেলে জসিম উদ্দিনকে পিটিয়ে জখম করে এই সব হামলাকারী। বর্তমানে সে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান অভিযোগকারী।
চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন: বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস বৃটিশ হাই কমিশনের
উল্লেখ্য, ৯০দশকের শেষ দিকে নূর নবী ওরফে নোব্বা চোরা দস্যু বাহিনী গড়ে তোলেন। রির্জাভ ফরেস্ট উজাড়, দখল, খুন, গুম. অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের রাজত্ব কায়েম করেন। ২০০১ সালে উপকূলীয় এলাকায় বন ও জলদস্যু নিধনকালে তাকে আটক করার পর বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তার দুটি চোখ উপড়ে দেয়। অন্ধ অবস্থায় দীর্ঘদিন কারা ভোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামে স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু