মেঘনার তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদী দখল করে নির্মাণকৃত একটি ৩ তলা ভবন, ৪টি ডকইয়ার্ডের ৪টি নৌযানসহ সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চলে। এসময় নদী দখল করে ভরাটকৃত ১ লাখ ২৫ হাজার ঘনফুট বালু নিলামে ২০ লাখ টাকা বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া মেঘনার শাখা নদীর প্রবেশমুখে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করতে থাকায় ১২টি ড্রেজার পাইপসহ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একটি শিল্প গ্রুপের দখলকৃত জায়গায় পাইলিংয়ের কাজ করায় ৩ জন ও ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঐ গ্রুপের এক কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সাংবাদিকদের তোপের মুখে তিনি দ্রুত প্রস্থান করেন।

৬ দিনব্যাপী অভিযানের ৫ম দিনে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পিরোজপুর ও চর গোয়ালদী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ- সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে ওই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) শফিকুল হক, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী, উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজসহ বিপুল উচ্ছেদ কর্মী, পুলিশ ও আনসার সদস্য, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

উপ-সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে একটি বিনোদন কেন্দ্রের ৩ তলা ভবন, বালু দিয়ে নদী ভরাটকারী ১২টি ড্রেজার, একটি গ্রুপের ৫টি টিনের ঘর, জেটি নির্মাণ স্থাপনা, ৪টি ডকইয়ার্ডের ৪টি জাহাজ, ৩০ ফুট সীমানা প্রাচীর, অপর একটি গ্রুপের ৬০ ফুট সীমানা প্রাচীর, একটি মিলের ৫০ ফুটের দেওয়াল এবং নদী দখল করা ১ লাখ ২৫ হাজার ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে ২০ লাখ ৪ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। আটক ৫ জনের মধ্যে ভরাটকারী ২ জনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, ঈদের পর আরো জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে নদী দখল করা যাবে না। তাই যে সব স্থাপনা থাকবে সব ভেঙে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সমপ্রতি নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন মেঘনা নদী পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নদী দখলের প্রমাণ পেয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।