নতুন সূচনার অপেক্ষায় নাইজেরিয়া

প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখালেও শেষ পর্যন্ত পারেনি নাইজেরিয়া, আবারো দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়েছে তারা। তারপরও এর মাঝেই নতুন দিনের সূচনা দেখছে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নরা।কিন্তু আগামী দিনগুলোর পথ চলায় দলটির সাথে থাকবে না এতোদিনের কাণ্ডারি স্টিফেন কেশিকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে পরাজয়ের পরই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। একই দিনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন বর্ষিয়ান তারকা জোসেফ ইয়োবো। গত সোমবার ব্র্রাসিলিয়ায় ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে নাইজেরিয়ার কোচ স্টিভেন কেশি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘এখন আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় চলে এসেছে। সময় এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জকে বরণ করে নেয়ার। ৫২ বছর বয়সী এই কোচ ২০১১ সাল থেকে নাইজেরিয়ার কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। গুঞ্জন আছে, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। গত বছর আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের পরই বিদায় বলতে চেয়েছিলেন কেশি। কিন্তু বোর্ডের জোরাজুরিতে সেই যাত্রায় থেকে যান নিজের দেশের সাথেই। কোচ হিসেবে নিজের শেষ দিনে দলেরও বেশ প্রশংসা করেন এই কোচ, ‘আমার মনে হয়, আমরা খুব ভালো একটা ম্যাচ খেলেছি কিন্তু দুর্ভাগ্যের কারণেই শেষ পর্যন্ত হেরে গেছি।’ কেশি মনে করেন, হয়ত অভিজ্ঞতার অভাব আর লক্ষ্যে মনোযোগ ঠিক রাখতে না পারার কারণে হারতে হয়েছে নাইজেরিয়াকে। নতুন দিনের প্রত্যাশায় সাবেক চেলসি ফরোয়ার্ড ভিক্টর মোজেস বলেন, ‘এটা তরুণ একটা দল কিন্তু দলটির ভবিষ্যত্ ভালো।’ গত সোমবার ব্রাসিলিয়ার স্ট্যাডিও নাসিওনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে নাইজেরিয়া। একের পর এক আক্রমণে ফরাসী রক্ষণকে ভালোই ব্যস্ত রাখে তারা। তারপর ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ঘুরে দাঁড়ালেও ৭৯তম মিনিট পর্যন্ত তাদের ঠেকিয়ে রেখেছিল ‘সুপার ঈগল’রা। কিন্তু এরপরই পল পগবার হেড আর যোগ করা সময়ে জোসেফ ইয়োবোর আত্মঘাতী গোলে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় নাইজেরিয়ার। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেরা ষোলো থেকে বিদায় নিল নাইজেরিয়া। এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালেও দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েছিল তারা। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি ঘটান এভারটনের সাবেক সেন্টার ফরোয়ার্ড জোসেফ ইয়োবো। এই ম্যাচটি ছিল তার ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ। যদিও ম্যাচের শেষটা হয়েছে তার আত্মঘাতী গোল দিয়ে। ম্যাচ শেষে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে খুব গর্বিত বোধ করি। আমি চলে যাওয়ার সময় দেশকে আরও উঁচু অবস্থানে রেখে যেতে চেয়েছিলাম। সময় এসেছে অন্য সবাইকে সুযোগ দেয়ার। আমাদের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল। আজ হোক, কাল হোক — সাফল্য আসবেই!’