দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষার নিম্নমান প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:২৩
দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষার নিম্নমানের ফলে এ অঞ্চলের অনেক যুবশক্তি দরিদ্রের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে এ অঞ্চলের দ্রুত প্রবৃদ্ধির অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সোমবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সমন্বিত এক গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত কয়েক দশকে এ অঞ্চলে স্কুলে ভর্তির হারে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু এ অঞ্চলের স্কুলগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারকে আরো ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফিলিপ লি হোরেরো বলেন, শুধু স্কুলগুলোতে সময় কাটানোই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকরী দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিনিয়োগের পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান ফিরে পাবার ভিত্তি সূচিত হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উত্পাদনশীলতা বাড়বে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা এ দেশগুলো ২০১৫ সাল নাগাদ সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় সহস্রাব্দ লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা খাতে বড় আকারের ব্যয় করেছে। এর ফলে ২০০০ সালে স্কুলে ভর্তির হার ৭৫ ভাগ থেকে উন্নতি হয়ে ২০১০ সাল নাগাদ ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ অর্জন ল্যাটিন আমেরিকার ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্জনের (৯৪%) কাছাকাছি এবং পূর্ব এশিয়ায় এ হার ৯৫ ভাগ।
আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ভিন্ন থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক ভালো করেছে। শ্রীলঙ্কা এক দশক আগেই তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র হলো প্রথম প্রজন্মের স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান ও শিক্ষা ব্যবস্থা। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ শিশুদের শিক্ষার পদ্ধতি হলো বুলি আওড়ানো বা মুখস্ত বিদ্যাভিত্তিক। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়, হিসাব কষা, বিভিন্ন অঙ্কের সমাধানসহ অর্থবোধক ব্যাকরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের ভালো জ্ঞান নেই। এক-চতুর্থাংশ থেকে এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী যারা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছে তারা সাধারণ সংখ্যার হিসাব এবং প্রাথমিক শিক্ষার অনেক বিষয়ে অজ্ঞ। ফলে পরবর্তী শিক্ষা গ্রহণে তারা এগুতে পারছে না। এ স্কুলগুলোতে দক্ষতা বাড়নোর অনেক বিষয়ই অনুপস্থিত। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের শিক্ষাবিদ হালিল ডুনডার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার নিম্নমান এ অঞ্চলের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে জরুরী অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এ জন্য প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিষয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যে স্কুলের শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়ন রয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। এছাড়া সরকারের উপর চাপ কমাতে শিক্ষাখাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পর্যবেক্ষণমূলক কর্মসূচি বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।