মিঠাপুকুরে অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ শুকুরেরহাট ও বৈরাগীগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকাসক্ত তরুণ-তরুণীরা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটর সাইকেলে এসে কিনছে মাদক। মাদক বিক্রিতে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এখানে খুচরা এবং পাইকারি মিলে অন্তত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাদক কেনা-বেচা হচ্ছে। মহানগরী থেকে ১৭ কিলোমিটার এবং মিঠাপুকুর থানা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরত্বের এ হাট এবং এর পার্শ্ববর্তী সমিল, পাম্পের মোড়, গোশতহাটি, নেহালের কাঁঠাল, পল্লীবিদ্যুত্ অফিস, হাট সংলগ্ন গেনারপাড়, তিলকপাড়া, দুর্গাপুর, চেংমারী, আখিরারহাট, নিঝাল মোসলেম বাজার, তালিমগঞ্জ, শাল্টিরহাট, মরাহাটি, বালুয়া, বৈরাগীগঞ্জ মূলত মাদক বিক্রির নিরাপদ আস্তানা। এসব এলাকায় দাঁড়ালেই হাজির হয় বিক্রেতারা। মূল বিক্রয়কারীরা নিজেদের আড়ালে রেখে স্থানীয় দরিদ্র শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্লিপ্ততায় কৃষ্ণনগরের রাঙ্গামাটি, কদমতলা, চড়ারহাট, শাল্টিরহাট, তালিমগঞ্জে নিয়মিত বসছে জুয়ার আসর। এলাকাবাসী জানায়, আগে থেকেই এখানে ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়ে আসলেও ইয়াবার প্রসার ঘটেছে সম্প্রতি। এখানে মেলে চোলাই মদ আর গাঁজাও। আর সন্ধ্যা হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে জুয়াড়িরা। এসব ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারীদের প্রত্যেকের নামে মিঠাপুকুর থানা ছাড়াও আশপাশের থানায় গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ ৭-৮টা পর্যন্ত মামলা রয়েছে। এমনকি এদের কেউ পুলিশ পেটানো মামলারও আসামি। ইয়াবা-ফেন্সিডিলের উত্স মূলত ভারত। আসছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, হিলি ও ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে। মিঠাপুকুর-সাহেবগঞ্জ-মধ্যপাড়া-ফুলবাড়ী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। নবাবগঞ্জের ব্যাপারীপাড়ার কয়েক বড় ব্যবসায়ী নির্ভয়ে মাদকের বড় চালান রাতের আঁধারে পৌঁছে দিচ্ছে শুকুরেরহাটের ব্যবসায়ীদের কাছে। মোবাইল ফোনে চাহিদা এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠালেই কয়েক ঘন্টার মধ্যে চলে আসে চালান। মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে মামলা এবং অভিযান চলছে।