বরিশালে গ্রামবাসীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এক নারীর বিরুদ্ধে

মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন বাড়ৈখালী গ্রামে এক নারী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। ওই নারীর নাম নুপুর বেগম। মা-ছেলের হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, থানাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মহিলা পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

মহিলা পরিষদ বরিশাল শাখায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, বড়ইখালী গ্রামের একটি বাড়ি দখল করে নুপুর ও তার ছেলে বাপ্পী মাদকসহ নানা অবৈধ ব্যবসায়ে লিপ্ত। এলাকার স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের তারা বিপথে যেতে প্ররোচনা দিয়ে থাকেন। এতে সচেতন মহল ক্ষুব্ধ হয়ে তার কাছে এসব কাজের প্রতিবাদ করলে ওই নারী এয়ারপোর্ট থানায় বাদী হয়ে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ও তাদের বাবা-মাসহ ১৩ জনকে আসামি করে সম্প্রতি একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিষয়টির সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নিতে রাজি হয়নি। কিন্তু মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর মল্লিকের নির্দেশে থানা পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তার মাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ওই কিশোরীর পরীক্ষা থাকায় কেবল তার মাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। জামিনে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী কোহিনুর বেগম তার স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে এবং অপর আসামি মিনারা বেগম তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে মহিলা পরিষদে সহযোগিতা কামনা করেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, র্যাব-৮ ও পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া নুপুর বেগম জামিনে মুক্ত হয়ে তার ছেলেকে নিয়ে এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে মামলা দিয়ে শায়েস্তা করা হয়। সম্প্রতি নুপুর তার বাড়িতে গ্রামবাসী হামলা করেছে বলে পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টো চিত্র পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়। আসল ঘটনা ছিল, নিজের বাসার চেয়ার-টেবিল ভেঙে নিজেই গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিলেন ওই নারী।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, নুপুর মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন ভুয়া তথ্য দিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করছেন। নিজের ঘরে নিজেই ভাঙচুর করে আরেকটি মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এ ব্যাপারে উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, ওই নারী তার কাছে এসে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন তাই পুলিশকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন সামান্য ঘটনায় তিনি অন্যকে ফাঁসাতে চান। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত নুপুর বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি খারাপ কোনো কাজ করেন না দাবি করে বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। ছেলেকে নিয়ে একটি বাড়িতে থাকি। লোকজন বাড়িটি দখলের জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’