রাজউকে নকশা অনুমোদনে কমিটি বাড়িয়ে ২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ৮টি থেকে বাড়িয়ে ২৬টি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই কমিটি গঠনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি মাসেই কমিটির কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি এম জয়নাল আবেদীন। রাজউক কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য নাম পাঠাতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নামের তালিকা রাজউকে পৌঁছেছে। জানা গেছে, ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র পেতেই একজন আবেদনকারীকে কয়েক টেবিল পার করতে হয়। রাজউকের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল, দীর্ঘ মেয়াদি ও ঝামেলাপূর্ণ। নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউকে আবেদন করার ৪৫ দিনের মধ্যে নকশা অনুমোদন করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অনেকেই বাড়ির নকশা অনুমোদন করতে গিয়ে বছরের পর বছর রাজউকে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোন আপত্তি থাকলে এক মাসের মধ্যে রাজউক থেকে তা গ্রাহককে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়ার কথা; কিন্তু বাস্তবে এই নিয়মও মানা হয় না। ফলে প্রতি বছর যে পরিমাণ নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউকে জমা পড়ে, তার মধ্যে নানা কারণ দেখিয়ে ৭০ শতাংশ নকশা অনুমোদন দেয়া হয় না। রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ) শেখ আবদুল মান্নান ইত্তেফাককে জানান, ৯ তলা থেকে তার ঊর্ধ্বে ইমারত নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদনের জন্য ২টি বিসি কমিটি থাকবে। কমিটির প্রধান থাকবেন রাজউকের সদস্য পরিকল্পনা এবং সদস্য উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ। বাকি ২৪টি কমিটির প্রধান থাকবেন জোনাল অফিসের পরিচালকরা। জোনাল অফিসের জন্য গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও সাভারে নতুন কার্যালয় স্থাপন এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বিসি কমিটি গঠিত হলে জোনাল অফিসের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হবে। ইমারত নির্মাণ সংক্রান্ত নকশার অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, বিল্ডিং নির্মাণ তদারকিসহ যাবতীয় কাজ জোনাল অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ ইমারত নির্মাণ করতে চাইলে তাদের কষ্ট করে আর রাজউক ভবনে আসতে হবে না। রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি এম জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, রাজউকের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং রাজউকের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি চলতি মাসেই বিসি কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই কমিটির কার্যক্রম শুরু হলে জনগণের দুর্ভোগও বহুলাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি রাজউকের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে। সংস্থাটির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।