ক্ষমা ও বিচার চাইলেন শামীম ওসমান
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৭
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, গত শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় আমাকে উদ্ধৃত করে দেশ বরেণ্য কিছু ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিক সমাজকে জড়িয়ে আপত্তিকর,অসমপূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি প্রথম আলোকে কোন সাক্ষাতকার দেইনি এবং আমি যা বলেছি সবই ছিল অন্য কারো উদ্ধৃতি দিয়ে কথা বা ‘কোট’। তিনি বলেন, আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত বা কোন সাংবাদিককে ‘কুকুর’ বলে মন্তব্য করার মত নির্বোধ আমি নই। যারা মহানবী রাসূলে পাক (সা.) সম্পর্কে কটুক্তি আর ব্যঙ্গ করতে পারে, এমন মিথ্যা মন্তব্য শুধু তারাই করতে পারে। আমার স্বাভাবিক আলাপচারিতা রেকর্ড করে টেম্পারিং করে ঐ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজ আমার এই ব্যাখ্যার পরেও যদি বিন্দুমাত্র মানসিক কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে আমি সকলের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনাদের কাছে ন্যায়বিচার আশা করছি।
শামীম ওসমান বলেন, প্রকৃতপক্ষে গত ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দু’টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা আমার সাথে সাক্ষাত করতে আসেন। কিন্তু সেখানে প্রথম আলোর দুজন সাংবাদিক তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন। আমি ঐ মুহুুর্তে আমার ভাই সেলিম ওসমানের জয়ের পথে থাকায় এতটাই আবেগাপ্লুত ছিলাম যে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনেও আমি আমার আবেগকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। ঐ সময়ে তাদের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতায় পেশাগত সমস্যা, দুর্ভোগ ও কিছু নেতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা উঠলে আমিও তাদের সাথে সমব্যথি হয়ে দেশের ২/৩জন খ্যাতনামা অগ্রজ সাংবাদিকের সাথে কোন এক আড্ডার উদাহরণ টেনে বলেছিলাম, ঐ আড্ডায় একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক বলছিলেন, ‘সেই মানিক মিয়া, জহুর হোসেনদের মত সময় আর নেই। সাংবাদিকতায় নীতি আদর্শ ধরে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। পত্রিকা আর চ্যানেলগুলো এখন কর্পোরেট হাউস হয়ে গেছে। আগে বড়লোকেরা কুকুর পুষতো, এখন পত্রিকা করেন।’ ঐ সাংবাদিক এসময় আমাকেও বলেন, ‘শামীম ভাই আপনিও দুইটা বের করেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে যারা লেখে তখন আপনি তাদের বিরুদ্ধে লিখবেন”। আমি তখন বলি, আমার এত টাকা নেই। তখন ঐ সাংবাদিক আমাকে হাসতে হাসতে বলেন, ‘শেফার্ড না পারেন দুটি সরাইলই বের করেন।’ গল্পের ছলে এসব কথোপকথনে আমার নিজস্ব কোন মতামত ছিল না বা সাংবাদিকদের সম্পর্কে আমার নিজস্ব কোন মন্তব্যও ছিলনা। আমি তাদের সাথে কথা বলার সময় কাদঁতে কাদঁতেই বলেছিলাম, আজ এই মুহুূর্তে কোন সাক্ষাতকার নয়, যা বলছি ‘অফ দ্যা রেকর্ডে’।
বিবৃতিতে শামীম ওসমান বলেন, কোথাও যদি আমার বিরুদ্ধে সরাসরি কোন অপরাধের প্রমাণ পান তবে আপনারা জাতির দর্পন ,আমাকে যে শাস্তি দিবেন আমি তা মাথা পেতে নেব। পাশাপাশি আপনাদের কাছেই আমি হলুদ অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। কারণ আমার সাধারণ আলাপচারিতা, ‘অফ দ্যা রেকর্ড’ বলার পরেও অডিও রেকর্ড টেম্পারিং করে তা বানোয়াট নিউজ আকারে প্রকাশ করে সাংবাদিকতার নীতিমালাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।