শিল্পী সাইফুল ইসলামের চিকিত্সার সহায়তায়
বগুড়া থিয়েটারের ‘দ্রোহ’
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৪, ১৯:২৭
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। এই চেতনাকে ধারণ করে, বগুড়া থিয়েটারের আলোকসম্পাত শিল্পী সাইফুল ইসলামের চিকিত্সার সহায়তায় সম্প্রতি বগুড়া থিয়েটার স্থানীয় টিটু মিলনায়তনে মঞ্চায়ন করল সংগঠনের ৬৩তম পরিবেশনা নাটক “দ্রোহ”।
মানুষের অপ্রাপ্তি হতে সৃষ্টি হয় ক্ষোভ, ক্ষোভ হতে দ্রোহ, দ্রোহ হতে বিদ্রোহ, বিদ্রোহ হতে বিপ্লব আর বিপ্লব থেকে সৃষ্টি হয় স্বাধীনতা। বাঙালির চরিত্রের মাঝে লুকিয়ে রয়েছে লড়াইয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এ লড়াই কখনও মানুষে-অমানুষে, কখনও প্রকৃতির সাথে মানুষের আবার কখনও আদর্শিক ন্যায়ের সাথে অনাদর্শিক অন্যায়ের। ‘দ্রোহ’ এমনি একটি বর্ণনাত্মক রীতিতে রচিত বহুমুখী লড়াইযের কাব্যিক পুরান।
নাটকের কাঠামো রচিত হয়েছে বগুড়া জেলার অদূরে সারিয়াকান্দি অঞ্চলের যমুনার কোল ঘেষে দাঁড়ানো বা জেগে ওঠা চরের মানুষের নিত্য যাপিত জীবন নিয়ে। এ জীবনে রয়েছে যেমন প্রেমের সিক্ত কোমল সুবাস, তেমনি রয়েছে কর্কশ বাস্তবতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সদম্ভ হুঙ্কার। ভৌগলিক কারণেই নদীপারের মানুষেরা হয় আদম্য সাহসী, ইস্পাত কঠিন মনোবলে অটুট। কেননা তাদের প্রতিনিয়ত লড়তে হয় প্রমত্তা যমুনার সঙ্গে। এ লড়াইয়ে কখনও জয়ী হলেও থেমে থাকে না তাদের সংগ্রামের চিত্র। ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে না পারা সমাজপতিরা হয়ে ওঠে বিষাক্ত কাল সাপের মতো ভয়ংকর। তাদের পাতানো জালের বিষে কখনও কখনও নীল হয়ে ওঠে কোমল এ সকল মানুষের অন্তর। হাজার বছরের সম্পৃতীর বাতাবরন হয় বিনষ্ট। ধর্মীয় গোঁড়ামি, অজ্ঞতা ও অশিক্ষার অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে শ্বেত বালুচর লাল রক্তে ভিজে ওঠে। উঠে আসে গল্পের পেছনের অজানা আরো এক গল্পের। যমুনা পাড়ের মানুষের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালিন গৌরবদীপ্ত লড়াই এর কাহিনী নাটকে যেমন রোমাঞ্চকর রং ছড়ায় তেমনি সেই সময়ের বিশ্বাস ঘাতকদের মুখোশ উম্মোচিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণম দ্রোহের নেতৃত্বে। নাটকের শেষে উচ্চারিত হয় বিভেদ ভুলে এক কাতারে আসার আহ্বান। সকল অশুভ অন্ধকারকে সরিয়ে নতুন আলোকের দীপ্তিময় অভার পুণ্য কিরণের ধারায় সিক্ত করার মাঙ্গলিক আকুতি। কেননা আকাশ থেকে যে বৃষ্টির ধারা নামে, সেও দেখে না কোনো সীমারেখা, সকলের উপর বর্ষিত হয় সে। যমুনার জল পিপাসা মেটায় আপামর মানুষের। তাহলে মানুষে মানুষে কেন এত বিভাজন, কেন এত রক্তপাত?
বর্ণনাত্মক রীতিতে এ নান্দনিক নাটকটি রচনা ও একই সাথে শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব তৌফিক হাসান ময়না।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনঃ অলক পাল, ফারুক হোসেন, জাকিউল ইসলাম সবুজ, পাপড়ি ইসলাম, বিধান কৃষ্ণ রায়, জিনিয়া ফারজানা জ্যোতি, রওনক জাহান রাকা, নিশু ইসলাম, সবুজ বর্মন, সর্দার হামিদ, আমজাদ শোভন, সুপিন বর্মন, তপন পাটোয়ারি, মাহবুবে সোবহানি বাপ্পী, আব্দুর রহিম, মিলস্নাত, লাভলু লেমন, ওসমান, সিজুল, জিয়া, আরাফাত প্রমুখ।