কী করে এলো

বিস্কুট

হয়তো অসময়ে খানিকটা ক্ষুধা লেগেছে। কিন্তু সময়টাও এমন যে চট করে ভাত, রুটি বা এ ধরনের কোনো খাবার খাওয়ার মতো অবস্থা নেই। এ অবস্থায় হালকা জলখাবারের অনুষঙ্গ হতে পারে বিস্কুট। গোটা দুনিয়ায় দেশ আর অঞ্চলভেদে হাতে গোনা যে দু’একটি খাবার অনায়াসে বিভিন্ন মানুষের মাঝে জায়গা করে নিয়েছে তা হলো বিস্কুট। তবে হাল আমলে যত ধরনের বিস্কুট আমরা হাতের নাগালে পাই তা থেকে এটি ধারণা করবার কোনো কারণ নেই যে বিস্কুট নামের এই খাবারটিও খুব আধুনিক। বরং মানুষের জানা মতে বিস্কুটের ইতিহাসটা কিন্তু কম করে হলেও প্রায় সাতশ বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, পঞ্চদশ শতকেরও বেশ কিছুটা আগে এবং মধ্য যুগের কোনো এক সময়ে এপিসিয়াস নামের এক রোমান রাঁধুনির হাত ধরেই বিস্কুটের জন্ম হয়েছিল। এই এপিসিয়াসই একদিন কী মনে করে যেন অনেকটা ময়দার লেই বা খামি একটা থালায় পুরু করে বিছিয়ে সিদ্ধ করে নিয়েছিলেন। হয়তো নতুন এক ধরনের রুটি বানানোর চিন্তাই মাথায় ছিল তার। কিন্তু ময়দার লেইটাকে শুকিয়ে শক্ত করে নিয়ে এবং সেগুলোকে টুকরো করে ভাজার পর এপিসিয়াসের মাথায় নতুন এক চিন্তা ভর করলো। তিনি ভাবলেন এগুলোকে মচমচে করে মধু মাখিয়ে সবাইকে খেতে দিলে মন্দ হয় না। আর তার এই চিন্তাটা যে ভুল ছিল না এর প্রমাণও তিনি পেলেন অন্যদের মুখে খাবারটির প্রশংসা শুনে। ধীরে ধীরে তার এই খাবারের খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়লো রোমানদের মাঝে। একে একে স্রেফ মধুর বদলে বিস্কুট তৈরিতে ময়দার পাশাপাশি যোগ হতে থাকলো চিনি, পানি ও সুগন্ধী মসলার মতো নানা উপকরণ। এভাবে প্রায় শতবর্ষ বা তারও কিছুটা বেশি সময় পাড়ি দেওয়ার পর ১৬০০ সালের দিকে এসে আরও কিছুটা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলো বিস্কুটের প্রস্তুতপ্রণালীতে। ক্রমে ক্রমে যুক্ত হতে লাগলো ডিম আর দুধের মতো পুষ্টিকর উপাদানও। সেই সাথে ফ্রেঞ্চ, লিসবন, নেপলস, স্প্যানিশ ইত্যাদি নানা ধারায়ও বিভক্ত হতে শুরু করলো নানান স্বাদের বিস্কুটগুলো। অন্যদিকে বিস্কুটের সাথে মাখন, ক্রিম ইত্যাদির যোগ হয় অষ্টাদশ শতকে আর ঊনবিংশ শতকে এর সাথে বাড়তি স্বাদ যোগাতে আসে বেকিং সোডা, চকোলেট আর ভ্যানিলার মতো নানা রাসায়নিক। এখানে মজার আরেকটি বিষয় হলো হালকা নাশতার অনুষঙ্গ হয়ে থাকা এই খাবারটিকে যে নামে আমরা ডাকি সেই বিস্কুট নামটি কিন্তু এসেছে ব্রিটিশদের কাছ থেকে। ল্যাটিন শব্দ প্যানিস বিস্কোটাস থেকে আসা এই শব্দটির অর্থ হলো ‘দুইবার রাঁধা রুটি’। অষ্টাদশ শতকের পরে এসে বিস্কুট তৈরিতে যুক্ত হয় মাখন, ক্রিম ইত্যাদি এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর পরে যোগ হয় ইত্যাদি রাসায়নিক। এতে বিস্কুট হয়ে ওঠে আরো সুস্বাদু।