গ্রামবাসীর চেষ্টায় মধুপুরে হলো ‘মহিষমারা কলেজ’
খান মোহাম্মদ খালেদ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৪, ২১:১৯
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের মহিষমারা গ্রামে গ্রামবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘মহিষমারা কলেজ’। এজন্য গ্রামবাসীর কেউ নগদ অর্থ, কেউ টিন দান করেছেন। তবে অধিকাংশ মানুষ দান করেছেন বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছ। সেই গাছ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে কলেজের ঘর নির্মাণ কাজে তা ব্যয় করা হয়েছে। গ্রামের শিক্ষিত এবং শিক্ষানুরাগী এক কৃষক ছানোয়ার হোসেন ও তার বাবা হাজী জামাল হোসেন দান করেছেন একশ’ শতাংশ জমি। সেই জমিতেই নির্মাণ করা হয়েছে ঘর। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই কলেজে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে।
গ্রামবাসী জানান, মহিষমারা গ্রামে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থাকলেও আশেপাশে কোন কলেজ নেই। ফলে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের এসএসসি পাসের পর দূরে গিয়ে কলেজে লেখাপড়া করা কষ্টকর হয়ে যায়। মেয়েদের পড়াতো রীতিমতো যুদ্ধ করার মতো অবস্থা। তাই গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
ছানোয়ার হোসেন জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে সবাই কলেজ করার ব্যাপারে একমত হন। এ সময় জায়গার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি (ছানোয়ার হোসেন) উপজেলার গারোবাজার এলাকায় তার ও তার বাবার একশ’ শতাংশ জায়গা কলেজের জন্য দান করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষের পক্ষে নগদ অর্থ দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা তাদের বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছ থেকে সাধ্যমতো গাছ দান করেন কলেজের জন্য। এগিয়ে আসেন স্থানীয় এমপি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মোতালেবসহ আশপাশের মানুষজন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কলেজটি। কলেজের জমি রেজিস্ট্রির সময় প্রায় দেড় লাখ টাকা দেন এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম।
ছানোয়ার হোসেন জানান, ইতিমধ্যে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। চলতি বছর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার অনুমোদনও পাওয়া গেছে শিক্ষাবোর্ড থেকে। এখন চলছে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি এবং ক্লাস শুরু করার তোড়জোড়।
মহিষমারা গ্রামের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও শওকত আলী জানান, তারা তিনটি করে গাছ দান করেছেন। তারা বলেন, এলাকায় কোন কলেজ নেই। মেয়েদের লেখাপড়ায় খুব ঝামেলা হয়। মুসলেম উদ্দিন বলেন, টাকা দেয়ার মতো অবস্থা নাই। তাই গাছ দান করেছি। পূর্ণচন্দ্র সরকারের বাড়িতে একটি মাত্র গাছ ছিল। সেটিই তিনি দান করেছেন কলেজের জন্য।
মহিষমারা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম তালুকদার জানান, গত এপ্রিল মাসে ১১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১১ মে চলতি সেশন থেকে ক্লাস শুরুর অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, শুধু চাকরির চিন্তা থাকলে অন্য জায়গায় হয়তো সে চাহিদা পূরণ হতো। কিন্তু এখানে যোগ দিয়েছি কলেজটিকে মনের মতো করে গড়ে তুলতে।
স্থানীয় আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব বলেন, এসএসসি পাসের পর অনেকের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় আশপাশে কোন কলেজ না থাকায়। এ কলেজের কারণে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে।