নাটোরে অপহরণের এক মাসেও উদ্ধার হননি শিক্ষক শহিদুল ইসলাম
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৪, ২১:২০
আরকে তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে (৫০) অপহরণের এক মাস পরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী মিলন মিয়াজির পিতা এমদাদুল মিয়াজিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি না করায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে ঐ প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়া হয়। ২ জুন বিকালে প্রধান শিক্ষক জরুরি প্রয়োজনে বেজপাড়া আমহাটির বাড়ি থেকে নাটোর শহরের দিকে আসেন। এক ঘণ্টা পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি ফিরে না আসায় পরদিন ৩ জুন তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম সদর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি ও পরে মিলন মিয়াজিসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অপহরণের মামলা করেন। এরপর ০১৭৫০৮২৫০৩৮ নম্বর থেকে তার ভাই তালিম হোসেনের মোবাইল ফোনে বলা হয়, ‘তোর ভাইয়ের হাড্ডিও পাবি না’। ‘মামলা চালালে তোকেও তুলে নেয়া হবে’। নম্বরটি র্যাব-৫ এর মেজর জামান ও সদর থানার ওসি আসলামউদ্দিনকে দেয়া হয়। র্যাব জানায়, ঐ নম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে কথা বলা হয়েছে। যে ফোন করছে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সদর থানার ওসি আসলামউদ্দিন গত ৮ জুন শিক্ষকের জামাতা ইউসুফ ভুঁইয়াকে জানান, শহিদুল ইসলাম যশোরের শার্শা থানাধীন জনসেবা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। তিনি তার চিকিত্সার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ০১৮৬৪৬৭৬৯৮৭ নম্বরে নয় হাজার টাকা বিকাশ করার কথা বলেন। জামাতা তাত্ক্ষণিক ঐ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান; কিন্তু টাকা পাঠানোর পর থেকে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাসির হোসেন কথিত হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা হন; কিন্তু হাসপাতালের অস্তিত্ব না পেয়ে তারা ফিরে আসেন।
মামলার বাদি ফাতেমা বেগম জানান, মামলায় যাদের সন্দেহ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে শুধু হাসান আলী নামে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যে সে জামিনে ছাড়াও পেয়েছে। প্রধান আসামি মিলন মিয়াজিসহ অন্যরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা সরকারি দল করে, তাই পুলিশ তাদের ধরছে না। তাদের দুই কন্যা হুমকির মুখে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।
সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, আরো কিছু অপহরণ মামলা নিয়ে পুলিশ ব্যস্ত আছে। তবে ঐ শিক্ষককে উদ্ধারের সব চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুল তথ্যের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ফোন কলটি ভুয়া ছিল।