ফ্রান্সের সামনে নির্ভার জার্মানি

আর মাত্র তিনটি পদক্ষেপ। ঠিকভাবে এগোতে পারলেই চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি হাসিতে উদ্ভাসিত হতে পারবে জার্মানি। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে কষ্টার্জিত জয়ের পর সন্দেহবাদীরা জার্মানির স্বপ্নকে সুদূরের কল্পনা বলে মনে করছেন। কোচ জোয়াকিম লো অবশ্য এসব নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। দলের মধ্যে ইনজুরি সমস্যা থাকলেও সাইড বেঞ্চের খেলোয়াড়দেরকেও যথেষ্ট যোগ্য বলে মনে করছেন তিনি। আলজেরিয়া-বাধা পার হয়ে জার্মানি শেষ আটে জায়গা করে নিলেও চোটের কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে ডিফেন্ডার স্কোড্রান মুস্তাফির। পোর্তো আলেগ্র্রেতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গত শেষ ষোলোর ম্যাচে সোমবার ৭০তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন মুস্তাফি। উরুর মাংসপেশিতে চোট পান জার্মানির এই ডিফেন্ডার। এর আগে মার্কো রিউসের ইনজুরিতে দলে জায়গা পেয়েছিলেন মুস্তাফি। জার্মানির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত মঙ্গলবার জানায়, ২২ বছর বয়সী সাম্পদোরিয়ার এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না। চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন বাস্টিয়ান শোয়ানস্টাইগারও। তবে জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো জানান, বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডারের অবস্থা খারাপ নয়। আগামী শুক্রবার মারাকানায় কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবে জার্মানি। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে নির্ভারই থাকছেন এই কোচ, ‘আমার দলটাকে আমি নানা ভাবে কাজে লাগাতে পারি। এখানে এক ধরনের নমনীয়তা আছে। সাইড বেঞ্চে খেদিরা বা শুরলের মত খেলোয়াড় থাকছেন। প্রয়োজন হলে যে ওদেরকে নামিয়ে দেয়া যেতে পারে। খেলোয়াড়রা এখন এক-দুদিনের বিরতি পাচ্ছে। আমি নিজেও আমার অস্ত্রগুলোকে নিয়ে আরেকটু ভাবতে পারবো।’ নির্ভার থাকলেও ফ্রান্সকে মোটেও খাঁটো করে দেখছেন না লো। মারাকানা স্টেডিয়ামের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘দিদিয়ের দেশমের অধীনে দলটা ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে উঠছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ সব সময়ই একটু অন্য রকম হয়। আর সব সময়ের মত এবারও আমরা প্রস্তুত।’ পোর্তো আলেগ্রের স্ট্যাডিও বেইরা-রিওতে ১২০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২-১ গোলে জিতে শেষ আট নিশ্চিত করে জার্মানি। ম্যাচ শেষে সমালোচকদের একটি কথাই মনে করিয়ে দেন জোয়াকিম লো, ‘বিশ্বকাপ সবসময়ই কঠিন এক জায়গা, এখানে লড়াই করেই জিততে হয়। বিশ্বকাপ পার্কে পায়চারি করার বিষয় নয়। যেখানে তীব্র লড়াকু এবং মারাত্মক রক্ষণ আর আগ্রাসী মনোভাবের প্রতিপক্ষ থাকবে, এমন কিছু ম্যাচ সেখানে হবেই।’ দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ বিশ্বকাপেও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ছিল লোর দল। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপেও আশা জাগানিয়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল জার্মানি। তবে দুটি বিশ্বকাপেই সেমি-ফাইনালেই থেমে গেছে তাদের অগ্রযাত্রা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ব্রাজিলে পা রাখা জার্মানির কী এবারও এমন কিছু হতে যাচ্ছে? আলজেরিয়া-পরীক্ষার পর কেউ কেউ এমনটা ভাবছেন। কিন্তু জোয়াকিম লোর চোখে এই ধরনের ম্যাচের প্রয়োজনীয়তা আছে। ১৯৮২ বিশ্বকাপের জার্মানি-অস্ট্রিয়ার ‘সমঝোতার’ ম্যাচের কারণে নকআউটে খেলতে না পারা আলজেরিয়া এবার প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল। পুরো ম্যাচেই তারা জার্মানিকে ভুগিয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে ৪-০ গোলে হারানোর পর জার্মানির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাটা একটু বেড়েই গেছে। ম্যাচ শেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ব্যাখ্যা দেন লো, ‘আমরা খুব বেশি বল হারিয়েছি, বিশেষ করে প্রথমার্ধে। আর আলজেরিয়াকে আমরা প্রতি আক্রমণে যেন আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’ তবে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ এখন অতীত। সামনে অপেক্ষা করছে ফ্রান্স বাধা। আগামী শুক্রবার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।