খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ৪ রমজান। রমজান মাস সিয়ামের মাস। সিয়াম পালনের মাধ্যমে অতি সহজে তাকওয়ার প্রশিক্ষণ লাভ করা যায়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছেঃ ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের প্রতি সিয়ামের বিধান দেয়া হলো, যেমন বিধান দেয়া হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। (সূরা বাকারা:আয়াত ১৮৩)। রমজান মাসব্যাপী সুবিহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম মননে যে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির আলো বিচ্ছুরিত হয়, তা তাকে তাকওয়ার সুরম্য সড়কে পরিচালিত করে, আর তাকওয়া বিশ্বাসকে সুদৃঢ় বুনিয়াদ প্রদান করে। সিয়াম বিধান দিয়ে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু যে লা আল্লাকুম তাত্তাকুন বলেছেন তাতেই সিয়ামের লক্ষ্য প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। এই তাত্তাকুন শব্দের অর্থ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ইত্তিকা শব্দ থেকে উত্সারিত হয়েছে। এই ইত্তিকা শব্দের অর্থ এমন সব জিনিস থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা যা ক্ষতিকর ও অন্যায়। এর বিস্তারিত অর্থ হচ্ছে আশঙ্কাযুক্ত বা ভীতিপ্রদ ও ক্ষতিদায়ক জিনিস থেকে আত্মরক্ষা করা। তাকওয়ার মূল আবেদন হচ্ছে আল্লাহেক খুশী রাজী রাখতে যে সমস্ত কাজ করা দরকার তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে করা, আর যে সমস্ত কাজ করতে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল নিষেধ করেছেন তা না করা। একজন সায়িম বা রোজাদার আল্লাহ্রই জন্য, আল্লাহ্রই ভয়ে এবং আল্লাহকেই ভালোবেসে সিয়াম পালন করে, যে কারণে সে অতি সহজে তাকওয়ার পথ পরিক্রমে নিষ্ঠাবান পথিকে পরিণত হতে পারে, সে মুত্তাকী হয়ে যায়। হাদীস শরীফে আছে যে, আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য কিন্তু সিয়াম আমার জন্য, তাই এর প্রতিদান আমি নিজেই দেবো। (বুখারী শরীফ)। [কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: এবং তোমরা পাথেয়র ব্যবস্থা করবে আর উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া।] (সূরা বাকারা:আয়াত ১৯৭)। যুগশ্রেষ্ঠ সূফী কুত্বুল আলম হযরত মওলানা শাহ্ সূফী আলহাজ্ব তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন: তাকওয়া ছাড়া জীবন লাগামহীন অশ্বের মতো দিশেহারা হয়ে যায়, যে কারণে সে দ্রুত পাপ পঙ্কিলতায় এমনভাবে প্রবিষ্ট হয় যে, তার আলোতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ থাকে না।