কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৪, ২২:৫০
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলের ‘থিংক ট্যাঙ্ক’ আন্দোলনের ছক প্রণয়ন করছেন। আগামী জানুয়ারির মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের টার্গেট সফল করতে ডাক দেয়া এই আন্দোলন সফল করতে বেগম জিয়া নিজেও সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে চেষ্টা করছেন।
আন্দোলনের ছকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে গণমিছিল, জনসভা ও গণঅবস্থানকে। এসব কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া নিজে উপস্থিত থাকবেন এমনটাই ভাবা হচ্ছে। কর্মসূচি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, বাধা দিলে হরতাল দেয়া হবে। তাতে সরকার যদি বেশি মারমুখী হয়, তবে লাগাতার কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শক্তি জামায়াতে ইসলামীর পরামর্শ নেয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানায়। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দেয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র মত কর্মসূচির পক্ষে মত দিয়েছেন বেগম জিয়া। তবে ২৪ ডিসেম্বর এ কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই অবরুদ্ধ হন তিনি। বেগম খালেদা জিয়া তখন দলের কোন নেতাকে পাশে পাননি। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু আগামীতে যাতে সেই অবস্থা না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি তৈরি করা হচ্ছে। বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, চেয়ারপার্সন স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলেছেন। কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের মতামত নিয়েছেন। তাদের কয়েকজন ঈদের পর লাগাতার আন্দোলনের পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কয়েকজন সারা দেশের কমিটি, বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর কমিটি পুনর্গঠন করে আন্দোলনে নামার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তবে তার উপদেষ্টারা সময়ক্ষেপণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, আমরা প্রত্যাশা করছি রোজার ঈদের পর আন্দোলনে একটি আশাতীত ফল দেখাতে পারবো। সরকারকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনে বাধ্য করতে যা যা কর্মসূচি দরকার আমরা তা প্রণয়ন করছি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুত হচ্ছে দল। আর এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ বলেন, নতুন পরিকল্পনায়, সম্পূর্ণ নতুন কৌশলে হবে আন্দোলন। প্রস্তুত হয়ে আছে কর্মীরা।
তবে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিকাংশ নেতা মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত। আন্দোলন শুরু হলে তারা প্রকাশ্যে থাকবেন না। দলের মূল সমস্যা সমন্বয়হীনতা। দলের চেয়ারপার্সন অনেক চেষ্টা করেও ‘চেইন অব কমান্ড’ ফিরিয়ে আনতে পারেননি। এখনো আন্দোলনের মূলকেন্দ্র ঢাকা মহানগরীতেই কমিটি পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি।
আগামী দিনে আন্দোলন গড়ে তুলতে দল গোছানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু সাংগঠনিক জেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে সেখানে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। আর সেই আহ্বায়ক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপান্তরিত করতে ৪৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো ৪৫ দিন অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের কারো কোনো আগ্রহ নেই।
দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন নেতা বললেন, আন্দোলনের আগে বর্তমানে কূটনৈতিক লবিং জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বেগম জিয়ার বৈঠকের সময় চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপিকে বন্ধুভাবাপন্ন হিসেবে তুলে ধরতে। তাকে কিছু ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে যাতে নির্বাচন এবং সরকারের নিপীড়নের চিত্র ছিল। বেগম জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গেলে ভারত ছাড়া সবাই সমর্থন করবে।
রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতার
গতকাল রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন খালেদা জিয়া। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে বেগম জিয়ার উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতারের আগে খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ২০ দলীয় ঐক্যজাট নেতাদের বাইরে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাসদ (রব) ও নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ইফতারে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের এই ইফতারে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের কেউ আসেননি।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূল মঞ্চে ইফতার করেন এলডিপির অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ’র অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) টিআই ফজলে রাব্বী, খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামি ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রমুখ।
এছাড়া মূল মঞ্চের সামনে ইফতারে অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান তালুকদার, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।