আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই রিপোর্ট দেয়া হয়েছে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণাটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক প্রণীত একটি গুণগত গবেষণা। গত ৩০ জুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। পত্রিকায় প্রকাশের পর টিআইবির এ রিপোর্টের বিরোধিতা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি। এরপরই গতকাল টিআইবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায়। বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচিত গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করা নয় কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া নয়। বরং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করাই হলো এই গবেষণার উদ্দেশ্য। বিবৃতিতে বলা হয়, উল্লিখিত গবেষণার তথ্য প্রাথমিক ও পরোক্ষ উভয় উত্স থেকে সংগৃহীত। পরবর্তীতে প্রতিটি ধাপে সামাজিক গবেষণায় বহুল ব্যবহূত ট্রায়াঙ্গুলেশন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্যের যাচাইকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। টিআইবি বিবৃতিতে জানায়, প্রতিটি তথ্যের অভ্যন্তরীণ সঙ্গতি এবং প্রাপ্ত অপরাপর তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য পরীক্ষার মাধ্যমে তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয় করা হয়। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ২২টি নির্বাচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, উপাচার্য, উপউপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে দলীয় আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বয়ে পরামর্শ সভা নিয়ে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গবেষণায় ব্যবহূত তথ্যসমূহ চূড়ান্ত করা হয়। গবেষণার বিভিন্ন তথ্যকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অসত্য বললেও প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্য সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে জড়িত স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকেই সংগৃহীত হয়েছে বলে জানায় টিআইবি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদে বলা হয়েছে, এ গবেষণা বিষয়ে টিআইবি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে তাদের জানা নেই। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি বিবৃতিতে জানায়, গবেষণার বিভিন্ন ধাপে একাধিকবার মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে টিআইবি’র গবেষকরা সরাসরি আলোচনা করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপ এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে বহুবার যোগাযোগ করা হয়। সর্বোপরি, ২৭ মার্চ-২০১৪ মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে টিআইবিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিতভাবে তথ্য প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, টিআইবি’র নীতিমালা অনুযায়ী ব্যক্তির দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে টিআইবি কোনো কাজ করে না বা কোনো মন্তব্য করে না। টিআইবি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি উন্মোচনে কাজ করে। তাই, গবেষণা প্রতিবেদনেও টিআইবি কোনো ব্যক্তির বিষয় উল্লেখ করেনি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় ইউজিসিকে সাধুবাদ জানিয়েছে টিআইবি।