সুপার-সাবে
সাফল্য
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫০
একটা সময় একবার ম্যাচ শুরু হয়ে গেলে কেমন যেন অসহায় হয়ে পড়তেন কোচরা। ১১ জন খেলোয়াড়ের একজনও যে বদলানোর নিয়ম ছিল না তখন। বিশ্বকাপে নিয়মটাতে পরিবর্তন আসে এই পঞ্চাশের দশকে এসে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্রথমবারের মত বদলি খেলোয়াড় নামানোর চল শুরু হয়।
আর নতুন এই নিয়ম যে কোচদের জন্য বড় একটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তার প্রমাণ মিললো এই বিশ্বকাপে এসে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা খেলোয়াড়রা ব্রাজিলে মোট ২৯ বার জালে বল গড়িয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ শুরু হবার আগেই এটা হয়ে গেছে নতুন এক রেকর্ড। সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে করা গোল সংখ্যার দিক থেকে ব্রাজিল ছাড়িয়ে গেছে বাকি সবগুলো বিশ্বকাপকে, তাও আবার আটটি ম্যাচ হাতে রেখেই।
এতোদিন এই রেকর্ডেও মালিক ছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ। সব মিলিয়ে সেবার চলমান বিশ্বকাপের চেয়ে ছয়টি গোল কম হয়েছিল। সংখ্যার দিক থেকেই কেবল নয়, গুরুত্বের দিক থেকেও গোলগুলো ছাড়িয়ে গেছে বাকি সব গোলকে।
এই যেমন গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে দলের জয় নিশ্চিত করলেন সুইজারল্যান্ডের হ্যারিস সেফারোভিচ। আছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাও। ঘানার বিপক্ষে চলমান বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত মাঠে নেমে মাত্র দুই মিনিটের মাথায় পায়ে বল আসা মাত্র গোল করে দিলেন। আর তাতে, ১৫টি গোল নিয়ে ব্রাজিলের রোনালদোর সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসে গেছেন।
সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইনজুরি সময়ের একদম শেষ ভাগে গোল করেছিলেন পর্তুগালের সিলভেস্টার ভ্যারেলা। ২-২ গোলের সেই ড্র দিয়ে তখন পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বে ওঠার সম্ভাবনা ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দলের।
দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচেও ছিল এমন কিছু কারিশমা। সুপার সাব হিসেবে নেমে আলজেরিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করেন চেলসির ফরোয়ার্ড আন্দ্রে শুরলে। সর্বশেষ একই চমক দেখান বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। বাজে ফর্মের কারণে ছিলেন না প্রথম একাদশে। কিন্তু মান বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত তারই শরণাপন্ন হলেন কোচ মার্ক উইলমটস। আর তাতেই বাজিমাত! গত বুধবার রাতে তার এক গোল ও এই অ্যাসিস্টে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেল ইউরোপিয়ান দলটি।
সুপার সাবে সাফল্য পাওয়া দলগুলোর মধ্যে আছে - কোস্টারিকা, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, আইভোরি কোস্ট, কলম্বিয়া, চিলি, গ্রিস, স্পেন, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, মেক্সিকো, আলজেরিয়া ও ব্রাজিল। সুপার সাব ব্যবহারের সবচেয়ে বড় জাদু দেখিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কোচ লুই ফন গাল। বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কমলা দস্যুরা মোট চারবার গোলের দেখা পেয়েছে। এর মধ্যে দুবারই গোলদাতা ছিলেন মেমফিস ডিপে। অস্ট্রেলিয়া ও চিলির বিপক্ষে গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। বাকি দুটি গোলের একটি পেয়েছেন নরউইচ সিটির লেরো ফার। চিলির বিপক্ষে সেই গোলেই গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় গতবারের রানারআপরা। আর সর্বশেষ মেক্সিকোর বিপক্ষে সুপার সাব হিসেবে রবিন ফন পার্সির পরিবর্তে খেলতে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ক্লাস জ্যান হান্টলার। সেই গোলের মধ্য দিয়েই শেষ আটের টিকেট কেটে ফেলে লুই ফন গালের দল।
সুপার সাবের গুরুত্বটা এবার বোঝা গেল তো?
বদলি খেলোয়াড়ের গোল
বিশ্বকাপ গোল
২০১৪ ২৯
২০০৬ ২৩
২০০২ ২১
১৯৯০ ২০
১৯৮২ ১৬