লেখকের সাম্প্রতিক
লিখছি ‘বোবা’ নামের উপন্যাস
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২০:০০
আমি আমার জীবনে বইয়ের বিপুল প্রভাবকে ব্যাখ্যা করি জীবন ধারণের প্রভাবক হিসেবে। ধরুন, ডা. লুত্ফর রহমানের উন্নত জীবন, মানব জীবন, মহত্ জীবন। এই তিনখানা গ্রন্থের ভূমিকা আমার জীবনে অপরিসীম। আমি এই গ্রন্থ থেকে শিখেছিলাম কিভাবে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তুলতে হয়। ঋণ না করে মাথা উঁচু করে সমাজে বাঁচা যায় কিংবা অসত্সঙ্গ কী কৌশলে ত্যাগ করা উচিত ইত্যাদি। মানবজম্মের সার্থকতা খুঁজে পেতে গ্রন্থের পৃষ্ঠা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
প্রতিদিন পড়ি যেসব বই—কবীর চৌধুরী অনূদিত ‘বুলগেরিয়ার ছোটোগল্প’। আর যে সব গ্রন্থের নাম উজ্জ্বল তার মধ্যে ধ্রুপদী গ্রন্থের সংখ্যাই বেশি।
টেবিলের সামনেই থাকে পাবলো নেরুদা, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, জীবনানন্দ, ভাসকো পোপা, মিরোশ্লাভ হলুব, চেসোয়াভ মিউশ, নিকানর পাররা, রুবেন দারিও, নজরুল এবং সুকান্ত। বিশ শতকের এই সব অনিবার্য কবিদের কারো না কারো কবিতা পড়ে ঘুমাই। আর সারাক্ষণ যার বক্তৃতা প্রবন্ধ ও ছোটগল্প আমাকে ভাবায়, প্রভাবিত করে, তিনি হচ্ছেন বিশ শতকের সাহিত্য চিন্তক সের্গেই লুইস বোরহেস। ক্ষুদ্রচিন্তার মধ্যেও যে অসীমত্ব থাকে তা বোরহেস-এর কাছ থেকে শিখতে হবে। তিনি হচ্ছেন আমাদের আধুনিক মননের শিক্ষক। পৃথিবীর প্রথম আধুনিক বিস্ময়কর উপন্যাস সেরভেন্তেসের ‘দন কিহোতি’। ‘সহস্র এক রাত্রি’ আরব্য রজনীর গল্পগুলো এখনো এমন এক পৃথিবীতে উড়িয়ে নিয়ে যায় যেখানে আনন্দ ভয় আর বিস্ময়ে ভরপুর—কিংবা যত বিপদসঙ্কুলই হোক, ফিরতে ইচ্ছে করে না। এই না-ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন দেরিদা তাঁর ডিকনস্ট্রাকশান তত্ত্বে। প্রতিটি পাঠ এবং পুনর্পাঠ নতুন ধারণার জম্ম দেয়। হেরাক্লিটাস যেমন বলেন—আজকের মানুষ আগামীকালের মানুষ নয়, আগামী কালের মানুষ আজকের হবে না। আর একই নদীতে কেউ দু’বার স্নান করে না। অর্থাত্ এক বই একই ব্যক্তি পাঠ করলেও আসলে পাঠ করে অন্য কোনো দ্বিতীয় সত্তা। আমি লেখকের চেয়ে পাঠকের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবতে চাই-Reader is faster then writer পাঠক এগিয়ে থাকে লেখকের চেয়ে।
এছাড়াও পড়ছি মিলান কুন্ডেরার ‘অস্তিত্বের অসহনীয় লঘুতা’ উপন্যাসটি। একজন লেখককে নতুন পাঠের মধ্য দিয়ে নিজেকে নবায়ন করতে হয়।
কিন্তু কবিকে শুধু কবিতা লিখলেই চলে না, তাকে জীবন ও জগতের নানা অভিঘাত গদ্যেও প্রকাশ করতে হয়। আমি মনে করি, না-বলা অনেক কথা এখন গদ্যে বলা দরকার। একটা কথা প্রচলিত আছে, কবিদের গদ্য নান্দনিক। এবারের বইমেলায় ‘প্রিয়তমাসু’, ‘কুড়িটি প্রেমের চিঠি’ বেরিয়েছে। আগামী বইমেলায় ‘বিরহগাথা’ শীর্ষক একুশটি চিঠি বেরোবে। এখন চিঠিগুলো লিখছি। পৃথিবীর সব বিরহী চরিত্ররা স্থান পাবে এই লেখায়। আর একটি উপন্যাসে হাত দিয়েছি। উপন্যাসটি বিষয় ইলেকট্রনিক দুনিয়ায় ফেসবুক, ইমেল, মোবাইল, এসএমএস মানুষকে হূদয় থেকে সরিয়ে নিচ্ছে এক যন্ত্রের জগতে। মানুষ ভুলে যাচ্ছে কথা বলা। উপন্যাসটির নাম দিয়েছি— ‘বোবা’। ১৯৯২ বেরিয়েছিল ‘সর্ম্পকেরা ভাঙে’। উপন্যাসটি আবার পুনর্লিখন করছি। পাশাপাশি করছি টিভি অনুষ্ঠান।
গ্রন্থনা : ইমরান মাহফুজ