মাহে রমজানের মাহাত্ম্য তাত্পর্য

রমাযান শব্দের অর্থ পুড়িয়ে জ্বালিয়ে খাটি করা শরী‘আতের পরিভাষায় রমাযান রোযাদারের আমলনামায় জমা হওয়া পাপ পঙ্কিলতাসহ যাবতীয় গর্হিত কাজকে ধ্বংস করে তাকে নিষ্পাপ মা‘ছুম করে দেয়। রমাযানের এক মাসের সিয়াম বিগত জীবনের সকল (কাবিরা ব্যতীত) গুনাহ্ খাতাকে মিটিয়ে দেয়। রমাযানের এক মাসের ক্বিয়ামুল লাইল বা তারাবীহর সালাত এবং লাইলাতুল ক্বদরের ইবাদাতও বিগত জীবনের সকল (কাবিরা ব্যতীত) গুনাহ্ খাতাকে মিটিয়ে দেয় যদি সেটা পূর্ণ ঈমানসহকারে ও সাওয়াবের আশায় করা হয়। সিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আল্লাহর সন্তুষ্ট করার সবচেয়ে বড় ও সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী ইবাদত। এর জন্য রয়েছে সীমাহীন বিনিময়। যা মহান আল্লাহ্ স্বহস্তে প্রদান করবেন। প্রতিদান প্রদানের এটাই ব্যতিক্রম পদ্ধতি” (বুখারী ও মুসলিম মিশকাত হা. ১৯৫৯)। কেয়ামতের কঠিন মছিবতের সময় সিয়ামের সুপারিশ কবুল করা হবে (বাইহাকী হাদীস ছহীহ মিশকাত হা. ১৯৬৩)। ছিয়াম পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত রাইয়ান নামক দরজা থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা.১৯৫৭) অতএব যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহেক খুশি করার জন্য ১দিন ছিয়াম পালন করে তার (জাহান্নামকে ১০০বছরের পথ দূরে করে দেবেন) জাহান্নামের মাঝে এমন ১টি গর্ত খনন করবেন যার ব্যবধান আসমান যমীনের সমান অথ্যাত্ ৫০০বছরের দূরত্বের পথ (ছিলছিলা ছহীহা ২২৬৭-৬৮/৬)। মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা সত্ ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পর পরস্পরের সহযোগীতা কর এবং নেকী হাছীলের ব্যাপারে, নেক আমল করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা আর পাপের প্রতি ও সীমালঙ্গনের প্রতি একে অপরের সহযোগিতা করোনা, আহ্বান করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা শাস্তিদানে কঠোর।” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলাকে যথাযথ লজ্জা কর যেমন তোমরা তোমাদের ক্বওমের সত্ ব্যক্তিকে লজ্জা করে থাক। প্রকৃতপক্ষে ছিয়াম বা রোযার মূল উদ্দেশ্যই হল আল্লাহকে যথাযথ ভয় করতে শেখা, যথাযথ লজ্জা করতে শেখা। আমরা ছিয়াম পালনকারীরা বহুতলা বিশিষ্ট্য ভবনের সবচাইতে নির্জনে লোক চোক্ষুর আড়ালে হালাল ও রুচি সম্মত বিভিন্ন আইটেমের খাবার উপস্থিত থাকলেও তা গ্রহণ করিনা। স্ত্রী ঘরে থাকলেও দিনের বেলা মিলিত হই না কারণ এগুলো ছিয়ামকে নষ্ট করে দেয়। আমি আল্লাহর জন্যই ছিয়াম পালন করছি আর তাঁর চোখের আড়ালে যেয়ে তো কিছুই করা সম্ভব না। তাই খাদ্য পানিসহ অমাবশ্যা রাত্রে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিজের কাঁধকে যখন অন্ধকার দেখা যায়। অমাবশ্যা রাত্রে, কালো কুচকুচে পিঁপিলিকা, কালো কুচকুচে পাথরের উপর দিয়ে েঁহটে যাওয়ার সময় আল্লাহ তা‘আলা তা সম্পূর্ণ রূপে অবগত থাকেন বা পিপিলিকা কখন পা উঠান আর কখন পা নামান তাও তিনি দেখেন ও পায়ের শব্দ শোনেন। রমযান মাস আসলে বান্দার জন্য আল্লাহ তা‘আলা দয়া পরবশ হয়ে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেন, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেন, রহমাতের দরজাসমূহ খুলে দেন এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয় আঁঁটকে রাখা হয়। একজন আহ্বানকারী সত্কর্মশীলদের বলেন, হে সত্কর্মী তুমি সামনে অগ্রসর হও আর অসত্কর্মশীলদের সাবধান করে বলেন, হে অসত্কর্মী তুমি থামো সামনে অগ্রসর হয়ো না। রসূলুল্লাহ্ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাস পেলো আর গুনাহ্ মা’ফ করে নিতে পারলো না বা জাহান্নাম থেকে নিরাপদ হতে পারলো না সেই ব্যক্তির চেয়ে হতভাগা আর কে হতে পারে? অর্থাত্ আমরা ২০,৩০,৪০. . . বছর রমযান পাওয়ার পরও ছিয়ামের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে বা আল্লাভীতি অর্জন করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্থ (জাহান্নামী) থেকে যাচ্ছি। আর কালবিলম্ব না করে তাওবাতূন নাসূহা করে তাক্বওয়া অর্জনের মাধ্যমে সম্স্ত প্রকারের অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার যথাযথ চেষ্টা করি আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন।