ভাঙ্গন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটে পদ্মা পাড়ের মানুষের
মো. কাজী সোহেল, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২১:০৯
কয়টা বছর ধইর্যা গাঙ্গের পাড়ে পইর্যা রইলাম। আমাগো কষ্ট কেউ দ্যাহে না। আমাগো কাছে কেউ আইলো না। আমাগো রাস্তায় থাকা ছাড়া উপায় নাই। অনেকটা আক্ষেপের সুরে এ কথাগুলো বলছিলেন নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পদ্মা ভাঙনকবলিত নয়াডাঙ্গী গ্রামের বৃদ্ধা সালেহা বেগম।
সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু পদ্মা পাড়ের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। চলতি বর্ষা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক দিনে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোত বইছে। ভাঙ্গন আতংকে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাহ্রাঘাট, নয়াডাঙ্গী, অরঙ্গাবাদ, পানকুন্ড ও ধোয়াইর এলাকার পরিবারগুলো পদ্মার ভাঙ্গনে নিরাপদ আশ্রয়ে ঘর-দরজা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ৫/৬টি পরিবার বেড়িবাঁধের উপর ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছে। এলাকাবাসী ভাঙ্গন আতংকে রাত জেগে কাটাচ্ছে। কখন যেন বসত ভিটে চলে যায় পদ্মা নদীগর্ভে।
এছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ (কাশিয়াখালী বাঁধ) বেড়িবাঁধের ধোয়াইর বাজার সংলগ্ন দেওয়ান বাড়ির মোড়ে প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। গত ২ বছরে বাঁধের কিছু অংশ ভাঙ্গনের পর কোন সংস্কার কাজ হয়নি। যে কোন মুহূর্তে পদ্মার পানির চাপে এ বেড়িবাঁধের বেশির ভাগ অংশ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্ল¬াবিত হতে পারে।
বাহ্রা গ্রামের এক তাঁতী পরিবারের সদস্য বলেন, বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ওয়াদা করেছিলেন নির্বাচিত হলে পদ্মার ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেবেন। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখিনি আমরা।
সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, পদ্মা ভাঙ্গন প্রতিরোধে দোহারবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। কাগজপত্রে সব কিছুই প্রক্রিয়া সম্পন্ন। নতুন অর্থ বছরের টাকা ছাড় পেলেই কাজ শুরু করা হবে।