কাউখালীর আশোয়া গ্রাম নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আশোয়া গ্রাম নদীর তীব্র ভাঙ্গনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় ঐ গ্রাম প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর নতুন করে আবার ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আশোয়া গ্রামের প্রায় ৩ হাজার অধিবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, আশোয়া গ্রামের দুই পাশ থেকে বয়ে গেছে সন্ধ্যা ও গাবখান নদী। দুই নদীর মাঝখানে অবস্থিত আমরাজুড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার জনবসতি নিয়ে গঠিত আশোয়া গ্রামটি। নদীর প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে ভেড়িবাঁধসহ ফসলি জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফেরিঘাট ও বনজ সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অত্র গ্রামের অধিকাংশ মানুষই সাধারণ কৃষক ও দিনমজুর। ভাঙ্গন কবলিত আশোয়ার গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সিডর ও আইলায় অত্র এলাকার অসংখ্য ঘর-বাড়িসহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আংশিক যে ভেড়িবাঁধটি ছিল তাও যথাসময়ে মেরামতের অভাবে আইলায় পুরোপুরি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। আমরাজড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণলাল গুহ জানান, ভেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ হয়নি স্থানীয়ভাবে কিছু অংশ মেরামত করা গেলেও অধিকাংশ ভেড়িবাঁধ থেকে গেছে অরক্ষিত। ফলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগেই অত্র ভেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ মেরামতসহ ভাঙ্গন এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা না হলে আশোয়া গ্রামসহ ওই জনপদ এবং সেখানের জনবসতী কাউখালীর মানচিত্র থেকে একেবারেই হারিয়ে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে। রাজারহাট সংবাদদাতা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে প্রবল স্রোতে তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে ৩টি গ্রামের ২০টি বাড়ি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তা বাঁধ, ৬টি ক্রসবাঁধ, ভেড়িবাঁধসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ মন্দির। বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগাবুর হেলান, চর তৈয়বখাঁ, চর বিদ্যানন্দ, হয়বত খাঁর চর, রামহরি, চতুরা, খিতাবখাঁ ও পাড়া মৌলার চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে ২শ’ হেক্টর জমির পাট, ধনচাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫ শতাধিক মানুষ। বর্তমানে তারা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। অপরদিকে তিস্তার প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে গেছে মন্দির, পাড়ামৌলা, তৈয়বখা, রামহরি, চতুরা মৌজার ২০টি বাড়ি। গৃহহারা পরিবারগুলো অন্যের জায়গা ও খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের পাইলিং দিয়ে তিস্তা বাঁধে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজেদুর রহমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ নুরী, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বুধবার পানিবন্দি এলাকায় খয়বতখা গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বাহে সাংবাদিকের বেটা হামরা একদিন থাকি পানিত পরি আছি বাহে তবুও সাহায্য চাইনা, নদী খনন চাই। এরকম নদী পারের সব মানুষের কথা।’ ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সরকার প্রতিবছর ত্রাণ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করে অথচ ত্রাণ না দিয়ে ড্রেজার দিয়ে তিস্তা নদী খনন করলে নদীপারের মানুষেরা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারত। তাই সরকারের নিকট এ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান তিনি।