ঈদ কেনাকাটা
শপিংমলে সাজসাজ রব
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২১:১২
এবারের ঈদে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে শপিংমলগুলো। দোকান ধোয়া-মোছার কাজটি শেষবারের মতো সেরে নিচ্ছেন দোকানীরা। শো-রুমের প্রতিটি কর্ণার সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত তারা। কোন কোন দোকানে বাড়তি বিক্রয় কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পার্ট-টাইম কাজ করছেন অনেক শিক্ষার্থী। শপিংমলগুলো আলোক শয্যা থেকে শুরু করে রঙিন বেলুন, ফুল আর শিপনের কাপড়ে ঝালোর দিয়ে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শপিংমলগুলো ঘুরে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে। মাসের শুরুতে রমজান শুরু হওয়ায় দোকানিরা আশাবাদী, এবার রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বেচাকেনা ভালো হবে। কারণ চাকরিজীবীদের হাতে বেতন এসে পড়েছে বলে জানান মিরপুর মেট্রোশপিং মলের বিক্রেতা শামসুল আলম। তিনি বলেন, আজ শুক্রবার থেকে পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা শুরু হবে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার কেনাকাটায় কিছুটা বাদসাধে বৃষ্টি। সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে পিচ্ছিল ছিল রাজপথ। কাদা-পানি একাকার করে তবুও ক্রেতারা ছুটছে প্রিয়জনের জন্যে কেনাকাটা করতে।
মেট্রোশপিং মলে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে এসেছেন লামিয়া ও মীম। তারা বলেন, আর ক’দিন পরেই মার্কেটে ভিড় বেড়ে যাবে, তখন আর দরদাম করে কেনাকাটা করা যাবে না। তাই আগে আগেই শপিং সেরে নিচ্ছি। তাদের মা আয়শা খানম বলেন, ভিড়ে শান্তিতে কেনাকাটা করা যায় না। তাছাড়া ঈদে ছেলেমেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনদের জন্যে যখন কিনতেই হবে, তখন দেরি করে লাভ কি? আগেই কেনাকাটা শেষ করে ফেললেই ভালো। তবে মা ও মেয়েরা অভিযোগ করে বলেন, জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি।
এদিকে ক্রেতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারে সেজন্য শপিংমলগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য এরই মধ্যে বেশকিছু শপিংমল ঘোষণা করেছে কেনা-কাটার ওপর র্যাফেল ড্র, বিভিন্ন প্যাকেজ ও আকর্ষণীয় পুরস্কার। এছাড়া যে যার দোকানটিকে আকর্ষণীয় করে সাজাতে করেছেন আলোকসজ্জা।
মিরপুর রোডে মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে আড়ং, সানরাইজ প্লাজা, রাপা প্লাজা, মেট্রো প্লাজা, অরচার্ড প্লাজা, প্লাজা এ আর, ক্রিসেন্ট মার্কেটসহ বুটিকশপগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে তরুণ-তরুণী ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বনামধন্য বুটিক হাউসগুলোর মধ্যে আড়ং, কে ক্রাফট, অঞ্জন’স, ওজি, বাংলার মেলা প্রভৃতি ফ্যাশন হাউসে সালোয়ার কামিজের প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল বেশি।
বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা যায়, তাদের নিজস্ব দর্জিরা কাপড় কাটা এবং সেলাই শেষ করে থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়ায়, ব্লক-বাটিক এর সঙ্গে পুঁতি-চুমকি, লেইস, পাথর-কুন্দন ও সুচিকারুকার্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। এর পর পোশাকে হাতের কাজ শেষ করে ধুয়ে আয়রন করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ফ্যাশন হাউসগুলোর মধ্যে আড়ং, নিত্য উপহার, অঞ্জনস, অন্যমেলা, কে ক্র্যাফট, বিবিয়ানা, নাগরদোলা, বাংলার মেলা রঙ, মায়াসির, লালসাদা নীলহলুদ, শাহরুখস কালেকশন, প্লাস পয়েন্ট, টেক্সমার্ট, ক্যাটস আই, এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফ্যাশন হাউস এর কর্মকর্তারা জানান, এবার রোজার প্রথম দিন থেকে ভালো বেচাকেনা প্রত্যাশা রয়েছে। কারণ এবার অধিকাংশ ফ্যাশন হাউস আগে থেকেই ঈদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এবার উজ্জ্বল রং ও হাল্কা রং এর প্রাধান্য থাকবে। তবে দেশীয় পোশাক ও শাড়ির প্রতিই ঝুকছে ক্রেতারা। এবার ঈদের প্রস্তুতিটা আগে থেকেই ছিল বলে রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভালো বেচাকেনা আশা করছেন তারা।