যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশবাসী শঙ্কিত

গণজাগরণ মঞ্চের মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতিতে সরকার ক্ষমতায় এসে বিচার কার্যক্রমও শুরু করেছিল। কিন্তু বর্তমানে এ বিচারের কার্যক্রম নিয়ে একদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ অন্যদিকে আইনমন্ত্রীর অকালপক্ক বক্তব্য। এতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দেশবাসী। এ শঙ্কা সরকারকেই কাটাতে হবে। সর্বশেষ মতিউর রহমান নিজামীর উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণ দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখা এরই ইঙ্গিত বহন করে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন দেশের বিশিষ্টজন। ‘যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে করণীয়’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ। ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি শাহীন রেজা নূর বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে গঠিত প্রসিকিউশন টিমের মধ্যে দুই দলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একটি দলের আইনজীবীরা যুদ্ধাপরাধ বিচারের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের মামলা নিয়েও কাজ করেন। এটা নীতি বির্বজিত কাজ। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। ফলে যুদ্ধাপরাধীদের রায়ে কোন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ইতিবাচক জাতীয় অর্জনের সবই মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে অর্জিত হয়েছে। আর এরই বিরোধিতা করেছিল রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীরা। তারা আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, হত্যা করেছিল, মা-বোনকে ধর্ষণ করেছিল। তাদের বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, একদিকে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধ বিচারে গঠিত স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্য নিয়ে সমন্বয়হীনতা। এতে দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে বিচার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে আইনমন্ত্রী অকালপক্ক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে জামাতের বিচার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের শব্দ সৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল, মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ, শিল্পী মনিরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কমান্ডের সহ-সভাপতি ইসমত কাদির গামা, মঞ্চের সংগঠক এফ এম শাহীন, হাবিবুল্লাহ মেজবাহ।