চট্টগ্রামে সড়ক বিভাগে ছুটি বাতিল হলেও মেলেনি অর্থ

চট্টগ্রামে সড়কের বেহাল দশা। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। মেরামত কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অল্পদিনের মধ্যে পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। সামনে আসছে ঈদ। জরাজীর্ণ সড়ক মেরামত করতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এই ছুটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চট্টগ্রামে সড়ক বিভাগের ৯১৬ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। সমপ্রতি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করতে অন্ততঃ ২০ কোটি টাকার প্রয়োজন। এজন্য চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। সমপ্রতি সময়ে বৃষ্টিতে সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। সড়ক বিভাগ জানায়, রাস্তাগুলো অনেক পুরনো। প্রতিদিন ধারণ ক্ষমতার বেশি যানবাহন চলাচল করছে। তার উপর কয়েকগুণ বেশি পণ্য নিয়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ও লরি চলাচলের কারণে সড়কগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তায় মাঝখানে বড় বড় গর্ত ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গর্তে যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। পথে পথে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের কারণে সড়কে চাপ বাড়বে। জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সকল ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় মেরামত কাজ শুরু করতে পারছে না তারা। এছাড়া মেরামত কাজে নিয়োজিত টেকনিক্যাল লোক ও যানবাহনের চরম অপ্রতুলতায় নিয়মিত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কাজের পরিধি বাড়লেও প্রয়োজনীয় যানবাহন ও জনবল বাড়ানো হয়নি। নতুন নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছর যাবত্ অস্থায়ী কর্মচারী নিয়ে মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ জানায়, তাদের ৩টি ডিভিশনে ৫৪১ কিলোমিটার আঞ্চলিক ও মহাসড়ক রয়েছে। অধিকাংশ সড়ক কয়েক যুগের পুরনো। সামান্য বৃষ্টিতে এসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে বৃষ্টিতে জেলায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কাপ্তাই, নাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে চলাচলে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। সমপ্রতি সময়ে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, অর্থ বছর শেষ হয়েছে। বরাদ্দ নেই। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।’ দক্ষিণ চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধান করেন দোহাজারী সড়ক বিভাগ। এই বিভাগের আওতায় ৩৭৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। বৃষ্টিতে সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়ক, বাঁশখালী প্রধান সড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ও আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উঠে গেছে সড়কের কার্পেটিং। সড়ক বিভাগ জানায়, এই অঞ্চলের সড়কগুলো কয়েক যুগ আগে নির্মাণ করা হয়েছে। শিল্পায়ন সমপ্রসারণের কারণে ভারী যানবাহন চলাচল কয়েকগুণ বেড়েছে। মেরামত কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সহজে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার বিভাগে ৩৭৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। যানবাহন ও জনবল সংকটে মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টিতে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই জন্য প্রায় ১০/১২ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বরাদ্দ এখনো মিলেনি।’