তাপস পালের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড়
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২২:২৭
হঠাত্ করেই জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য তাপস পালের বিরোধীদের বাড়ি-বাড়ি লোক পাঠিয়ে ধর্ষণ করাবেন এমন বেফাঁস মন্তব্যে তোলপাড় এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গ। টক অব দ্যা টাউন এখন তাপস পাল। এরই ভেতরে কয়েক দফা তাপস পালের কুশপুত্তলিকা দাহ হয়েছে। জনরোষ তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার রাজ্যসভার সদস্য বাতিল হতে পারে এমন গুঞ্জন যখন মিডিয়ার দোরগোড়ায় ঠিক তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাপস পালের পাশে দাঁড়াবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সবশেষে চারদিক থেকে সমালোচনার তোড়ে এবার কিছুটা নড়েচড়ে বসলেন তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্ষণের হুমকি দিয়ে সারা দেশেই এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৃণমূলের সংসদ সদস্য তাপস পাল। তার পদ খারিজ করার দাবি তুলেছে সব মহলই। দেশ জুড়ে ধিক্কারের জেরেই এবার তাপস পালকে আপাতত সংসদে যেতে নিষেধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে অবশ্য দোলাচলে থেকে তাপস পালের পাশে দাঁড়াল তৃণমূল দল। তৃণমূলের সর্বদলীয় বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ‘ও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে। তাপসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মিডিয়ার’। এই বৈঠকে তাপস পাল উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে তাপস পালের এ ধরনের কাণ্ডকীর্তির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ইমেজের চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে অন্য নেতারাও পাশ কাটিয়ে চলছেন। তাই এই অবস্থায় গতকাল থেকেই মিডিয়ার সাথে কোনোরকম যোগাযোগ রাখছেন না তাপস পাল।
এ প্রসঙ্গে সেলফোনে কলকাতার চিত্রনায়ক জিত্ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাপস দা’র মতো এত বিজ্ঞ শিল্পী-রাজনীতিক এমন একটা বেফাঁস কথা বলতে পারে ভেবে অবাক লাগছে। লোকসভা নির্বাচনের সময় দেব বলে ফেললো, ‘তার নাকি রেপড হওয়ার মতো আনন্দ লাগছে। এখন আবার আরেক সিনিয়র অভিনেতা বললেন, বিরোধীদের বাড়িতে বাড়িতে ধর্ষক পাঠাবেন। এটা কোন্ রাজ্যে আছি বুঝতে পারছি না।’
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ নিয়ে একটা কলাম লিখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই লজ্জাবোধ করছি। আমরা তো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি খুইয়ে যেতে বসেছি।’
কলকাতার একাধিক মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলে তাপস পালকে নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে নিউজি চ্যানেল চব্বিশ ঘণ্টার সিনিয়র প্রডিউসার অদিতি রায় ইত্তেফাককে জানালেন, ‘এ বিষয়টিই লজ্জার। এখানে তাপস দা যা বলেছেন, যে জঘন্য শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন তাতে কোনো মিডিয়ার তার পক্ষে থাকার প্রশ্ন আসে না। এরপর হাস্যকরভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তার ক্ষমা চাওয়া উচিত জনগণের কাছে। আর লজ্জা থাকলে এখনই পদত্যাগ করা উচিত।’