অতীতকে কবর দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই :এরশাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বললেন- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা অতীতকে কবর দিতে চাই। আসুন, অতীতের খারাপ দৃষ্টান্তকে কবর দিই। সবাই মিলে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নতুন যাত্রা শুরু করি। সরকারি দল ও বিরোধী দল পরস্পরের শত্রু নয়, বরং আমরা প্রতিপক্ষ-এ শ্লোগানে এগোই।’ গতকাল বুধবার দশম সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব থাকায় বিরোধী দলের পক্ষে এরশাদ বক্তব্য রাখেন। এরশাদ যে বক্তব্য রাখবেন, তা তিনি আগেরদিন সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে রেখেছিলেন। বিরোধী দলে থাকাকালে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এরশাদ। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিরোধী দল হিসেবে আপনারা কি সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন? মন্ত্রিসভার কেউ কেউ আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করেন, কটাক্ষ করেন। আমাদের নিয়ে হাসবেন না। এতে গণতন্ত্রের প্রতি অবিচার হবে। এই প্রথম জাপা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। আমরা ছায়া সরকারের ভূমিকা পালন করছি, এজন্য আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ।’ আওয়ামী লীগের কারণে বিএনপি-জামায়াত ‘বিষবৃক্ষের’ উত্থান হয়েছে বলে দাবি করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯১-এর নির্বাচনের আগে আমাদের জেলে পাঠানো হয়েছিল। ঠিকমতো প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারিনি। তবুও আমরা ৩৫টি আসন পেয়েছিলাম। ১৭টি আসনে ৪-৫শ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলাম। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিষবৃক্ষ’ আপনারাই সৃষ্টি করেছিলেন। এটা আমার দোষ নয়, আমাদের দোষ। ১৯৯১ সালে আর পাঁচটি আসন বেশি পেলে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করে এই সংসদে আসতে পারতো না। আমরা-আপনারা মিলে সরকার গঠন করতাম। এরশাদ বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ১৯৯০ সালে আমি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছিলাম। তখন ১৫ দল ও ৭ দল আন্দোলনকালে যে চুক্তি করেছিল, সেই অনুসারে আমি ক্ষমতা ছেড়ে দেই; কিন্তু সে চুক্তি মানা হলো না। আমাকে জেলে দেয়া হলো। নেতা-কর্মীদের জেল হলো, আমাদের ওপর অবিচার করা হলো। এ অবিচার কিছুতেই ভুলতে পারি না। সে সময়ে নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে সমান সুযোগ দিলে বিএনপি-জামায়াতের সৃষ্টি হতো না। নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এক্সরে করেও নির্বাচন কমিশনের নাকি কোনো মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন নির্বাচন কমিশন আমরা চাই না।’ তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় দেশ নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নে দরকার সহায়ক পরিবেশ। ভোটের আগে বিএনপি-জামায়াত যে নৈরাজ্য, ধ্বংস চালিয়েছিল, তা অব্যাহত থাকলে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। ভোটের আগের ওই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে; কিন্তু পুরোপুরি হয়নি। নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরে ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। জেল, ফাঁসি হলে এসব বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে নিজের লেখা একটি কবিতা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠ করেন এরশাদ। ‘আমাদের যাত্রা হলো শুরু...গড়তে চাই প্রাণের বাংলাদেশ’ কবিতা পাঠ করেন এরশাদ। এসময় শেখ হাসিনাও সহাস্যে হাততালি দেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে আপনি যা খুশি করেন, আমরা এতে সমর্থন জানাবো। মানুষ আপনার কাছে শান্তি ও স্বস্তি চায়। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে চায়, স্বস্তিতে থাকতে চায়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তি চায়। তা নিশ্চিত করুন। আপনিও বঙ্গবন্ধুর মতো চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।’