ঢাকা-চট্টগ্রামে মাত্র তিন শত ছিনতাইকারী!
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৪, ২২:২৯
পুলিশের তালিকায় রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছিনতাইকারীর সংখ্যা তিনশ’। এদের মধ্যে চট্টগ্রামের তালিকায় আছে ১০২ জন। বাকিরা ঢাকার। এদের সিংহভাগই একাধিকবার ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে। কয়েক মাস জেলবাস শেষে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও ফিরেছে পুরনো পেশায়। পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে এদের দৌরাত্ম্য অনেকটা ম্রিয়মাণ। তবে সুযোগ পেলে এরা মাঝে মধ্যেই ছিনতাই করে যাচ্ছে। অতীতে দেখা যেত ছিনতাই করার সময় ছিনতাইকারীরা ককটেলই বেশি ব্যবহার করতো। এখন ব্যবহার করছে আগ্নেয়াস্ত্র। ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই এরা চলে যায় আত্মগোপনে (শহরের বাইরে)।
ঈদের আগে ব্যাপক কেনা-বেচার মধ্যে ছিনতাইকারীদের তত্পরতাও বেড়ে যায়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ তালিকা করে অভিযান শুরু করেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (সিএমপি) পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। ছিনতাইকারীদের তালিকা তৈরি সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এ তালিকাই চূড়ান্ত কথা নয়। তালিকার বাইরেও ছিনতাইকারী দলের অনেক সদস্য রয়েছে। কিন্তু তাদের তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। যারা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়েছে তারাই তালিকাভুক্ত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তবে সাম্প্রতিক সময় কয়েকটি ছিনতাইয়ের পর পুলিশ এসব অপরাধীদের (ছিনতাইকারী) গ্রেফতারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান শুরু করেছে। অস্ত্রহাতে কোন ছিনতাইকারীকে পাওয়া গেলে পুলিশ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। ছিনতাইকারীর তালিকা সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া অপরাধীরাই (ছিনতাইকারী) তালিকাভুক্ত।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) বাবুল আক্তার বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে সিএমপি পুলিশ ১০২ ছিনতাইকারীর তালিকা তৈরি করেছে (থানার তালিকায় অনুয়ায়ী)। তালিকা তৈরির পরপরই পুলিশ তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর অভিযানের পর থেকে ছিনতাইয়ের মত অপরাধের ঘটনা অনেকাংশে কমেছে। তিনি আরো বলেন, রজমানে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে বাজারে যেতে পারেন সেজন্যই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি অভিযান চলছে অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে।
সিএমপি পুলিশের প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের জিইসি মোড় থেকে লালখান বাজার সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ, টাইগারপাস-সিআরবি হয়ে বিআরটিসি বাস স্টেশন ও নিউ মার্কেট হয়ে রেল স্টেশন এলাকাগুলোতেই বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। আর তালিকা অনুযায়ী সর্বাধিক সংখ্যক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে কোতওয়ালী এলাকায়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হালিশহর।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ডিএমপির তালিকাভুক্ত ছিনতাইয়ের স্পট ৪৪১টি। এগুলো নগরীরর ৪৮ থানা এলাকার। ছিনতাইকারী প্রতিরোধে নগরীর প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে আলাদা টিম। পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের মত করে টিম গঠন করে অভিযান শুরু করেছে। গত দেড় মাসে রাজধানীতে ১৮টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের গুলিতে দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় দুই ছিনতাইকারী।