খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ৫ রমজান। রমজান মাস খুবই বরকতের মাস। এ মাস প্রাচুর্য ও সৌভাগ্যের মাস। এ মাসে একটি ভালো কাজ করলে ইবাদত বন্দেগী করলে তার সওয়াব অন্য মাস অপেক্ষা অনেক গুণ বেশি পাওয়া যায়। প্রিয়নবী সরদারে দো-আলম নূরে মুজাস্সাম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা আলার নৈকট্য প্রাপ্তির আশায় এই মাসে একটি নফল আদায় করবে সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায়ের সমতুল্য সওয়াব লাভ করবে। যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায়ের সমতুল্য সওয়াব লাভ করবে। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু তার খলীফা বা প্রতিনিধি হিসাবে মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তিনি আলমে আরওয়াহ্ বা রূহের জগতে সব মানবাত্মাকে সমবেত করে তাদের কাছ থেকে তার রবুবিয়তের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ আলাস্তু বি রব্বিকুম- আমি কি তোমাদের রব্ নই। সবাই সমস্বরে বলে উঠেছিলো: হ্যাঁ। তিনি মানুষকে জ্ঞান দিয়েছেন, বিবেক দিয়েছেন, ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন, আবিষ্কার করার ক্ষমতা দিয়েছেন, উদ্ভাবন করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে। ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা। ইবাদতের মাধ্যমেই আল্লাহকে খুশী ও রাজী করানো যায়। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু প্রাচুর্যের মাস রমজানকে বিশেষ মর্যাদা দান করে রহমত মাগফিরাত ও দোযখের আগুন থেকে মুক্তির খাস সুযোগ দান করেছেন। এই মাসব্যাপী যে প্রাচুর্যের সমারোহ ঘটে সেই প্রাচুর্যের অধিকারী হওয়া যায় সিয়াম পালনের মাধ্যমে। হযরত আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু তা’আলা আন্হু থেকে বর্ণিত আছে যে হযরত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, সিয়াম ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ (আমলই তার নিজের জন্য। কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি নিজেই এর পুরস্কার (জাযা) দেবো। সিয়াম হচ্ছে ঢাল (পুন্নাতুন)। তোমাদের কেউ সিয়াম দিবসে কোন প্রকারেরই অশ্লীলতায় যেন লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া বিবাদ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে সে যেন দুবার বলে- আমি সায়িম (রোজাদার)। (বুখারী শরীফ)। রমজান মাসের প্রাচুর্য অনেক। এই মাসের পবিত্রতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সে ব্যাপারে সবারই সচেষ্ট হওয়া উচিত।